আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৮০ জন নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন! উত্তাল মহারাষ্ট্রে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ১৯ বছরের যুবক মহম্মদ আয়াজ ওরফে তানভীর। তার বাড়ির এক অংশ সম্প্রতি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। অমরাবতী জেলার পরতওয়াড়া শহরের এই ঘটনায় বিপুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, অচলপুর পুরপরিষদের একটি দল বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে আয়াজের বাড়িতে অভিযানে যায়। বাড়ির প্রথম তলায় ওঠার জন্য রাস্তার ওপর যে বেআইনি লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছিল, জেসিবি দিয়ে তা ভেঙে ফেলা হয়। 

জানা গিয়েছে, সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক প্রবীণ তায়াদে। পুরসভা জানিয়েছে, জবরদখল সরানোর জন্য আগেই পরিবারকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মহম্মদ আয়াজ ‘লাভ ট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে নাবালিকাদের মুম্বই এবং পুণেতে নিয়ে যেত। সেখানে প্রায় ৩৫০টি আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়ে নাবালিকাদের ব্ল্যাকমেল করা, এমনকী জোর করে দেহব্যবসায় নামানোর মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সমাজমাধ্যমে কিছু আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হতেই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এক বিজেপি সাংসদও এই নিয়ে সরব হন। জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপ ব্যবহার করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে নাবালিকাদের টার্গেট করা হতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আয়াজ এক সময় আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। সমাজমাধ্যমে তার একাধিক পোস্টে দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছে। যদিও ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি দূরত্ব বাড়িয়েছে মিম। দলের জেলা সভাপতি সৈয়দ মুজিবের দাবি, “আয়াজ এখন আর দলের কেউ নয়। পঞ্চায়েত ভোটের সময় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজে গাফিলতির জন্য তাকে অনেক আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে।”

গত মঙ্গলবার আয়াজকে আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় উজের খান নামে আরও এক যুবক-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

জেরায় অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। আয়াজের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এই চক্রের জাল আর কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।