আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিএসএনএল-এর ডিরেক্টর। গিয়েছিলেন প্রয়াগরাজ ভ্রমণে। কিন্তু কল্পনাতেও আসেনি, তাঁর ভ্রমণকালই তাঁর জন্য বিপদ বয়ে আনবে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিএসএনএল কর্মকর্তার দু'দিনের প্রয়াগরাজ ভ্রমণের বিলাসবহুল ভ্রমণ প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বুধবার কেন্দ্র বিবেক বানজাল নামে একজন সিনিয়র বিএসএনএল অধিকর্তার প্রয়াগরাজ ভ্রমণ প্রসঙ্গে মতামত সামনে এনেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, আমি স্পষ্ট করে বলেছি যে এটি অনুচিত এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও ঐতিহ্যের লঙ্ঘন। এটি আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য।'
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে?
জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার ডিরেক্টর, ভ্রমণে শুধু গিয়েছিলেন নয়, সেখানে প্রতি পদে তাঁর নানা রকম কাজ করার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন একগুচ্ছ কর্মীকে। জানা গিয়েছে, '৮৭ ব্যাচের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা কর্মকর্তা বিবেক বানজাল, তিনি বিএসএনএলের ডিরেক্টর (কনজিউমার ফিক্সড অ্যাক্সেস - সিএফএ)। ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়াগরাজ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁর দু'দিনের ভ্রমণ হঠাৎ করে ভাইরাল।
কেন ভাইরাল? কী এমন করেছেন তিনি?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জুনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার এবং ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সাব-ডিভিশনাল এবং ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন কর্মীকে ডিরেক্টরের ভ্রমণের প্রতি পদক্ষেপে সাহায্যের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। সঙ্গমে স্নান থেকে শুরু করে হনুমান মন্দির, অক্ষয়বট এবং পাতালপুরী মন্দির পরিদর্শন পর্যন্ত, আদেশে বনজালের থাকার সময় "আরাম ব্যবস্থাপনা" নিশ্চিত করার জন্য বিস্তারিত ব্যবস্থা ছিল।
বিস্তারিত বিবরণে চুলের তেল, অন্তর্বাস, চিরুনি, টুথপেস্ট, ব্রাশ, শেভিং কিট এবং চপ্পলের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আটটি স্নানের কিট ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তথ্য, সেগুলির মধ্যে ছ'টি পুরুষদের জন্য এবং দু'টি মহিলাদের জন্য, এবং একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্নানের পরবর্তী ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
কিন্তু যে ঘটনায় তোলপাড় দেশজুড়ে, সেই ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া খোদ সংস্থার। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ভ্রমণটি বাতিল করা হয়েছিল এবং বিএসএনএলও এই বিতর্কের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে যে ঘটনাটি তাদের পেশাদার মান এবং মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ঘটনাপ্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়েছে বিএসএনএল। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান নির্দেশিকাগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য আরও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিএসএনএল কর্মীদের এই বিষয়ে নির্ধারিত আচরণবিধি এবং নির্দেশাবলী সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার জন্য মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
