আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল থেকে উদ্ধার হল বিহারের এক ডাক্তারি পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ। মৃত ছাত্রের নাম লাবণ্য প্রতাপ (২১)। তিনি এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শনিবার রাতে হোস্টেলের শৌচাগার থেকে তাঁর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছাত্রটি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। মৃতের পরিবার পাটনা থেকে দুর্গাপুরে পৌঁছেছে। সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, সাম্প্রতিক সেমিস্টার পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করার পর থেকেই ওই ছাত্র চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই কারণেই এই পরিণতি কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গগত, গত অক্টোবর মাসে এই কলেজেই ওড়িশার এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত বন্ধু ও আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। পাঞ্জাবের ভাতিন্ডার এই ঘটনায় শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অভিযুক্ত মহিলাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম জাসি কৌর। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতেই পথের কাঁটা সরাতে নিজের সন্তানদের সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিলেন ওই মহিলা।
গত ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই শিশুর রহস্যমৃত্যুতে সন্দেহ দানা বাঁধে গ্রামবাসীদের মনে। জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে হঠাৎই মারা যায় জাসির আট বছরের মেয়ে সুখপ্রীত কৌর। সেই শোক কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয় জাসির ছয় বছরের ছেলে ফতেবীরের। পরপর দুই শিশুর মৃত্যুতে ফুল থানার দ্বারস্থ হন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি ছিল, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।
তদন্তে নেমে জাসি কৌরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশ আধিকারিক মনোজ কুমার জানিয়েছেন, জেরায় নিজের অপরাধ কবুল করেছেন জাসি। তিনি স্বীকার করেছেন, খাবারে ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে দুই সন্তানকে খাইয়েছিলেন তিনি।
তদন্তকারীদের দাবি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। জাসির এই পরিকল্পনায় সামিল ছিলেন তাঁর বোন মোটো কৌর এবং লখি সিং নামে আরও এক ব্যক্তি। পুলিশের বক্তব্য, "প্রথমে আট বছরের সুখপ্রীতকে মারা হয়। এরপর শুক্রবার একই কায়দায় খুন করা হয় ফতেবীরকে। জাসি কৌর ও তাঁর বোন মোটো কৌরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।" এই ঘটনায় লখি সিংয়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
