আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরু শহরকে পথচারীদের জন্য আরও নিরাপদ ও হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে বড় পদক্ষেপ কর্নাটক সরকারের। শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাথ মেরামতের জন্য এ বার ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন 'বৃহৎ বেঙ্গালুরু উন্নয়ন' মন্ত্রী কৃষ্ণ বাইরে গৌড়া। রাজ্য সরকারের এই নয়া উদ্যোগেকে 'সেফ ফুটপাথ ক্যাম্পেন' বলে নামকরণ করা হয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমনটাই খবর।
মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার 'এক্স'-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে, 'গত তিন দিনে বেঙ্গালুরুর নবগঠিত পাঁচটি পুরনিগম এলাকার অধীনস্থ প্রায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি ফুটপাথ ইতিমধ্যেই জবরদখল মুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযানের মূল উদেশ্যই হল বেঙ্গালুরুর রাস্তাগুলিকে পথচারীদের জন্য আরও ব্যবহারযোগ্য ও সুরক্ষিত করে তোলা।'
রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, পথচারীদের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নে তারা অগ্রাধিকার দেবে। এর জন্য ৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হবে। যা বেঙ্গালুরুর ফুটপাথগুলির চেহারা বদলে দিতে সাহায্য করবে।
ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি আশঙ্কাও দূর করেছেন মন্ত্রী কৃষ্ণ বাইরে গৌড়া। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সরকার হকারদের পুরোপুরি সরাচ্ছে না। বরং তাঁদের শহরের মূল রাস্তাগুলি থেকে সরিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভেতরের রাস্তায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এবং জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামী দিনে এই উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় আসবে ফুটপাথে ফেলে রাখা পরিত্যক্ত গাড়ি, অবৈধ পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি, নির্মাণকাজের বর্জ্য, জমে থাকা আবর্জনা এবং ফুটপাথের ওপর তৈরি করা অবৈধ র্যাম্প। চে
মন্ত্রী বলেন, "যেসব ব্যবসায়ীরা ফুটপাথ দখল করে রেখেছেন, তারা যেন স্বেচ্ছায় সেগুলি সরিয়ে নেন। জীবনজীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত না করেই জনসাধারণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই সরকারের আসল উদ্দেশ্য।"
নতুন এই উচ্ছেদ ও ফুটপাথ সংস্কার অভিযান নিয়ে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পথচারীদের স্বার্থে নেওয়া এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অন্যরা বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার আগেই কেন হকারদের সরানো হচ্ছে বলে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। কিছুজনের দাবি, ফুটপাথ সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের উচিত শহরের রাস্তায় খানাখন্দ, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, আবর্জনা সমস্যা এবং তীব্র জলসংকটের মতো অন্যান্য নাগরিক সমস্যাগুলিরও দ্রুত সমাধান করা।















