আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর পাসপোর্ট বিতর্কে নয়া মোড়। মঙ্গলবার অসম পুলিশের একটি দল দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বাসভবনে পৌঁছেছে। চার সদস্যের একটি দল কংগ্রেস নেতা নিজামুদ্দিনের বাসভবনে পৌঁছয়। অসম পুলিশকে সহায়তা করছে দিল্লি পুলিশ।
জানা গিয়েছে, অসম পুলিশ যখন এদিন খেরার বাড়িতে পোঁছেছে তখন বাসভবনে ছিলেন না পবন খেরা। পুলিশ তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।
সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মার তিনটি পাসপোর্ট রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন খেরা। তাঁর নামে বিদেশি সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। পবন খেরার দাবি ছিল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা এবং মিশরের পাসপোর্ট রয়েছে হিমন্তের অর্ধাঙ্গীনির নামে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রিনিকি দেবীর নামে দুবাইয়ে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি এবং আমেরিকায় একটি সংস্থা রয়েছে, যা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য গোপন করার অভিযোগ করে রিনিকি দেবীর মনোনয়ন বাতিল করার দাবি তোলে কংগ্রেস।
হাত শিবিরের আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগেন অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। হাত শিবিরের নেতার অভিযোগকে 'ভুয়ো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে উড়িয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দেন হিমন্ত।
এরপরই মঙ্গলবার অসম পুলিশ পবন খেরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর দিল্লির বাড়িতে পৌঁছায়।
এফআইআর দায়ের, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ‘মিথ্যা দাবির’
এর আগে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী তথাকথিত মিথ্যা অভিযোগের জন্য পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “গতকাল আমার স্ত্রী একটি এফআইআর দায়ের করেছেন, এবং আমি নিশ্চিত যে পুলিশ আইনের যথাযথ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
হিমন্ত আরও অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক কংগ্রেসের সংবাদিক বৈঠকে ব্যবহৃত নানা ইস্যু পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য হতে পারে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা।
অভিযোগ ‘ভুয়ো’ বলে দাবি হিম্নতের স্ত্রীর
রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা একাধিক পাসপোর্ট এবং বিদেশি সম্পদ সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, “ভারত কোনও দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না, আর কংগ্রেস আমার তিনটি পাসপোর্টের কথা বলছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, শর্মা পরিবারকে বদনাম করার জন্য মনগড়া এবং ডিজিটালভাবে বিকৃত বিষয় ব্যবহার করা হচ্ছে।
অসমের ভোটের আগে বিতর্ক
৯ই এপ্রিল অসমে ভোট গ্রহণ। তার মাত্র কয়েকদিন আগে কংগ্রেসের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। যেখানে উভয় পক্ষই নাগরিকত্ব, সম্পদ এবং তথ্য প্রকাশের নিয়ম নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।
















