আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি আবগারি  নীতি মামলায় আদালতের রায়ে অব্যাহতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দিলেন আম আদমি পার্টির প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করলেন, আপকে ধ্বংস করতেই ‘ভুয়ো মামলা’ সাজানো হয়েছিল। একইসঙ্গে বিজেপিকে দিল্লিতে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিলেন তিনি।

আবগারি  নীতি মামলায় বিশেষ আদালত কেজরিওয়াল, তাঁর প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া এবং আরও ২১ জনকে অব্যাহতি দেয়। রায়ে সিবিআইয়ের চার্জশিট নিয়ে কড়া মন্তব্য করে আদালত জানায়, তাতে “অভ্যন্তরীণ অসঙ্গতি রয়েছে, যা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ভিত্তিকেই দুর্বল করে।” এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এটিই নাকি “সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের” পর্দাফাঁস।

প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে আপকে শেষ করতেই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, “সারা জীবন আমি শুধু সততা আর সম্মান অর্জন করেছি। মোদি ও শাহ ভুয়ো মামলার মাধ্যমে সেটা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন।” তিনি আরও বলেন, ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও পুলিশকে লাগিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে নামা হয়েছিল, এমনকি জেলেও পাঠানো হয়েছিল—কিন্তু “কেজরিওয়ালকে শেষ করা যায়নি।”

&t=21s

এরপরই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোড়েন তিনি: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, দিল্লিতে অবিলম্বে নির্বাচন করুন। বিজেপি যদি ১০টির বেশি আসন জেতে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” একইসঙ্গে দিল্লির বায়ুদূষণ, যমুনার দূষণ এবং পরিকাঠামোর অবনতির জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেন তিনি।

আবেগঘন বক্তব্যে কেজরিওয়াল জানান, ২০২৪ সালের মার্চে গ্রেপ্তারের পর তাঁর ও তাঁর পরিবারের উপর গভীর প্রভাব পড়েছিল। নাম পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। “আজ বুকের ওপর থেকে এক বিশাল বোঝা নেমে গেল,” বলেন তিনি। পাশাপাশি ইঙ্গিত দেন, সংশ্লিষ্ট ইডি মামলাগুলিতেও অব্যাহতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে আপ।

রায়ের পর কেজরিওয়ালের বাসভবনের বাইরে আপ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। মিষ্টি বিতরণ, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উদযাপন চলে। দলীয় নেতারা একে রাজনৈতিক মোড়বদল হিসেবে তুলে ধরেন। মণীশ সিসোদিয়া বলেন, এই রায় সংবিধানের উপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দিল্লি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশি অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে দলীয় নেতাদের নিশানা করা হয়েছিল। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জানান, “সত্যের জয় হবেই।” তবে কেজরিওয়ালের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই রায় তাঁর কাছে শুধু আইনি স্বস্তি নয়—বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন সূচনা।