আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরেও দফায় দফায় গুলির লড়াই জম্মু ও কাশ্মীরে। সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন এক সেনা জওয়ান। আহত হয়েছেন আরও সাত সেনা জওয়ান। কাশ্মীর জুড়ে ফের আঁটসাঁট নিরাপত্তা। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকেই কাশ্মীরের কিশতোয়ারের ছতরু এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল সেনা। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। সেই সঙ্গে ছোড়া হয় গ্রেনেডও। দু'পক্ষের গুলির লড়াইয়ে আটজন সেনা জওয়ান জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহত জওয়ানদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। একজন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। 

জানা গেছে, কিশতোয়ারের ছতরু এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জম্মু ভিত্তিক হোয়াইট নাইট কর্পস এই অভিযান চালায়। রবিবার দুপুরে শুরু হয়েছিল অপারেশন ত্রাসি-ই। এক্স মাধ্যমে একটি পোস্ট করে হোয়াইট নাইট কর্পস- এর তরফে জানানো হয়েছে, চতরুর উত্তর-পূর্বে সোন্নার এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনীর। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল White Knight Corps। কারণ ওই এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর ছিল সেনাবাহিনীর কাছে।  

সূত্রের খবর, ওই এলাকায় দু'-তিনজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গি এরা। সম্ভবত পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য। সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় আবারও অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরপর সেনার সঙ্গে যোগ দেয় সিআরপিএফ এবং স্থানীয় পুলিশবাহিনীও। 

জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাতে ও  নজরদারির জন্য অত্যাধুনিক মেশিন, ড্রোন সবই ব্যবহার করা হচ্ছে কিশতোয়ারের ওই এলাকায়। স্নিফার ডগ নিয়েও চলছে তল্লাশি। চলতি বছর এই নিয়ে তৃতীয়বার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে জম্মু এলাকায়। এর আগে ৭ জানুয়ারি এবং ১৩ জানুয়ারিও গুলির লড়াই হয়েছে। 

গত সেপ্টেম্বর মাসেই উধমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই হয় সেনার। এক সেন জওয়ান ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। প্রায় একই সময়ে তল্লাশি চালিয়ে পুঞ্চ সেক্টর থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধার করে সেনা। বড় কোনও হামলার ছক ছিল বলেই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছিল। 

জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় ফের সন্ত্রাসবাদী দমন অভিযানকে ঘিরে তীব্র গুলির লড়াই চলে সেপ্টেম্বর মাসে। ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদের তিন থেকে চারজন জঙ্গিকে ওই এলাকায় ঘিরে ফেলা হয়েছে। সংঘর্ষে এক সেনা জওয়ান আহত হয়েছেন। প্রথমে সেনার তরফে জানানো হয়েছিল যে কিশ্তওয়ারেও একটি আলাদা গুলির লড়াই চলছে। তবে পরে স্পষ্ট করা হয়, এই অভিযান শুধুমাত্র উধমপুর জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। 

২৬ জুন দুদু-বসন্তগড়ের জঙ্গলে সংঘর্ষে খতম হয় জইশ কমান্ডার হায়দার, যিনি প্রায় চার বছর ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। এর আগে ২৫ এপ্রিল একই এলাকায় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন এক সেনা জওয়ান। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা কাশ্মীর উপত্যকার সাতটি জেলায়। শ্রীনগর, বারামুলা, অনন্তনাগ, কুপওয়ারা, হ্যান্ডওয়ারা, পুলওয়ামা এবং শোপিয়ানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পর গত জুলাই মাসে ‘অপারেশন মহাদেব’ -এর মাধ্যমে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিন জঙ্গিকে খতম করে সেনাবাহিনী। এর কয়েকদিন পরেই কাশ্মীরের কুলগাম এলাকায় ‘অপারেশন অখল’ চালিয়েছিল সেনা। গুলির লড়াইয়ে সেখানে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।