আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনন্ত আম্বানির জন্য তৈরি হওয়া এক বিশেষ বিলাসবহুল ঘড়ি সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে। এই ঘড়িটি শুধু দামের দিক থেকেই নয়, নকশার ক্ষেত্রেও অনন্য। প্রায় ‘মিলিয়ন-ডলার’ মূল্যের এই টাইমপিসটি তৈরি করা হয়েছে ভান্তারা থেকে।
ঘড়িটির নকশা ও দর্শনের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতির প্রতি সম্মান ও সংরক্ষণের বার্তা। ভান্তারা প্রকল্প মূলত হাতি, বাঘ, চিতা, অজগরসহ নানা বন্যপ্রাণীকে উদ্ধার, চিকিৎসা, রিহ্যাব ও পুনর্বাসনের কাজ করে। সেই ভাবনা ঘড়ির নির্মাণে ফুটে উঠেছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজের মাধ্যমে। ডায়াল ও স্ট্র্যাপে দেখা যায় প্রাণিজগতের মোটিফ, পাতার নকশা ও গ্রাভিং, যা একদিকে শিল্প বর্ণনা করে, অন্যদিকে সকলের চোখ টানে।
এই ঘড়ি নির্মাণ করেছে একটি আন্তর্জাতিক হাই-এন্ড লাক্সারি টাইমপিস ব্র্যান্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, একে বলা যায় ‘কাস্টম আর্ট পিস’—কারণ এর প্রতিটি উপাদান আলাদা করে তৈরি করা হয়েছে অনন্তের পছন্দ ও ভান্তারার হিসেব অনুযায়ী। স্টোন সেটিং, ডায়ালের ইমেল কাজ, স্যাফায়ার ক্রিস্টাল ও বহুমূল্য ধাতু ব্যবহার—সব মিলিয়ে এটি কার্যত এক শিল্পকর্মের মতো।
দামের দিক দিয়ে এই ঘড়িটি মিলিয়ন-ডলারের স্কেলে পৌঁছে যায়, যা ভারতীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় বহু কোটি টাকার সমান। শুধু দামী উপাদান নয়, সময়, কারিগরি দক্ষতা মিলিয়ে এটির দাম এত বেশি। একই ঘড়ি অন্য কারও জন্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম, কারণ এটি সম্পূর্ণ কাস্টম ও কম্পোজ করা।
অনন্ত আম্বানিকে বরাবরই জনসমক্ষে দেখা যায় পশুপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রচেষ্টার মুখ হিসেবে। বিশেষ করে ভান্তারা নিয়ে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। সেই ভাবনা তাঁর ব্যক্তিগত স্টাইল ও অ্যাকসেসরিজেও প্রতিফলিত হওয়াটা স্বাভাবিক। এই কাস্টম ঘড়ি তারই সম্প্রসারিত রূপ—যেখানে বিলাসিতা, শিল্প ও পরিবেশ-সচেতনতা একসাথে মিলেছে।
ফ্যাশন ও বিলাসবহুল ঘড়ি–সংগ্রাহকদের কাছে এই ধরনের টাইমপিস নতুন কিছু নয়, কিন্তু ভারতীয় কনটেক্সটে এমন প্রকল্প-অনুপ্রাণিত বিলাসঘড়ি বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। কারণ এটি শুধু ‘স্টেটমেন্ট পিস’ নয়, বরং একটি উদ্দেশ্যবাহী গল্পও বহন করে। প্রকৃতি সংরক্ষণ ও প্রাণীর প্রতি মমতা।
অনন্ত আম্বানির এই ভান্তারা ‘মিলিয়ন-ডলার’ ঘড়িটি শুধু দামে নয়, ভাবনায়ও অসাধারণ। এখানে ব্যক্তিগত রুচি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মিলে এক বিরল উদাহরণ তৈরি করেছে।
