আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah শনিবার ঘোষণা করেছেন, সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। গুয়াহাটিতে ৮৭তম সিআরপিএফ দিবসের প্যারেডে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই আশা ব্যক্ত করেন।

এই প্রথম উত্তর-পূর্ব ভারতে সিআরপিএফ দিবসের প্যারেড অনুষ্ঠিত হল। অনুষ্ঠানটি হয় সারুসজাই স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে পাথর ছোড়ার ঘটনা 'শূন্যে' নেমে এসেছে, মণিপুরে জাতিগত অশান্তি মোকাবিলা এবং গত তিন বছরে মাওবাদী কার্যকলাপ ভাঙনের ক্ষেত্রে Central Reserve Police Force (সিআরপিএফ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

“আমি সিআরপিএফের উপর আস্থা রাখতে পারি এবং দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যার অবসান ঘটবে,” বলেন শাহ।

তিনি ছত্তিশগড়-তেলঙ্গানা সীমান্তের কাররেগুট্টা পাহাড়ে ২১ দিনের ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফরেস্ট’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই অভিযানে ২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে ৩১ জন মাওবাদী নিহত হয় বলে তিনি জানান। প্রখর ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লিটার ঘাম ঝরিয়েও জওয়ানরা অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের ঘাঁটি ভেঙে দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শাহ বলেন, ১০-১১ বছর আগে দেশে তিনটি বড় ‘হটস্পট’ ছিল—জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ, মাওবাদী এবং উত্তর-পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদ। “যে এলাকাগুলি একসময় বোমা, গুলি ও অবরোধের জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেগুলি উন্নয়নের অংশীদার,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তনের পেছনে সিআরপিএফের আত্মত্যাগ বড় ভূমিকা নিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্বে ৭০০, মাওবাদীপ্রবণ এলাকায় ৭৮০ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ৫৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ দিয়েছেন। “এই আত্মত্যাগ না হলে আজ উন্নয়নের পথে এগোনো সম্ভব হত না,” বলেন তিনি। অসমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ৭৯ জন জওয়ান প্রাণ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন শাহ।

তিনি বলেন, সিআরপিএফের ৮৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রতিষ্ঠা দিবসের প্যারেড উত্তর-পূর্বে, “আমাদের অসমে” অনুষ্ঠিত হল—যা গোটা অঞ্চলের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি জানান, বাহিনীর ২,২৭০ জন জওয়ান সর্বোচ্চ আত্মবলিদান দিয়েছেন এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির পর জম্মু ও কাশ্মীরে একটি গুলিও চালাতে হয়নি বলে দাবি করে শাহ বলেন, সেখানে শান্তি বজায় রাখতে সিআরপিএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অনুষ্ঠানে ১৫ জন সিআরপিএফ কর্মীকে বীরত্ব পদক প্রদান করা হয়। ছয় জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (বিশিষ্ট সেবার জন্য) দেওয়া হয় এবং সেরা ব্যাটালিয়নগুলিকে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে সিআরপিএফের মহাপরিচালক G P Singh বলেন, ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফরেস্ট’ মাওবাদীদের “মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে”। তিনিও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মাওবাদী নির্মূলের ব্যাপারে আশা তুলে ধরেন। শনিবারের প্যারেডে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আটটি সিআরপিএফ কন্টিনজেন্ট অংশ নেয়। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ সদস্যের এই বাহিনীর ইতিহাসে উত্তর-পূর্বে এমন জাঁকজমকপূর্ণ প্যারেড এই প্রথম। কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেন ২২৫তম ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট দীপক ঢৌন্ডিয়াল।

মহিলা জওয়ানদের রাইফেল ড্রিল, কমান্ডোদের জঙ্গি দমন কৌশলের প্রদর্শনী এবং কোবরা ইউনিটের জঙ্গলযুদ্ধের মহড়া উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। উল্লেখ্য, সিআরপিএফের প্রথম ব্যাটালিয়ন ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ শাসনে ‘ক্রাউন রিপ্রেজেন্টেটিভস পুলিশ’ নামে গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Sardar Vallabhbhai Patel বাহিনীর নামকরণ করেন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স।