সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেমের ফাঁদে পড়ে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গুজরাটের রাজকোটে। তিন বছর আগে অনলাইনে পরিচয়, তারপর প্রেম, সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু শেষমেশ যা হল, তা কল্পনাও করতে পারেনি ২০ বছর বয়সী পীযূষ।

জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তরুণীর সঙ্গে পীযূষের আলাপ হয়। কথা বলতে বলতে সেই বন্ধুত্ব প্রেমে গড়ায়। তিন বছর ধরে তারা সম্পর্কে ছিল এবং একসঙ্গে থাকছিল। পীযূষ তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবেই মেনে নিয়েছিল। কিন্তু তার ওই সঙ্গী সবসময় শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলত। যদিও তা নিয়ে পীযূষের মনে কখনও সন্দেহ জাগেনি। ভালবেসে মেনে নিয়েছিল সবটা।

কিন্তু বিয়ের তিন বছর পর আসল ঘটনা ফাঁস হয়। পীযূষ হঠাৎ একদিন দেখে, তাঁর সঙ্গী বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছে! তখনই সে বুঝতে পারে, যাকে সে নারী ভেবে এতদিন ভালবেসেছে, সে আসলে একজন পুরুষ। এই সত্যিটা জানার পর দু'জনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া শুরু হয়। প্রতারণা সহ্য করতে পারে না পীযূষ। রাগের বশে পাথরের আঘাতে সঙ্গীকে খুন করে ফেলে।

কিছুদিন পর রেললাইনের পাশ থেকে পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি আর নানা প্রমাণের ভিত্তিতে পীযূষকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় পীযূষ তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলেও জানা যায়।

ভার্চুয়াল জগতের এই সম্পর্ক যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটা চরম দৃষ্টান্ত। আপাতত পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। এর আগেও অনলাইন স্ক্যামের বহু ঘটনা সামনে এসেছে। কিন্তু নারী সেজে সংসার করার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলেছে নেট দুনিয়ায়।