আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছেলের স্কুলের বাইরে বাবার মর্মান্তিক পরিণতি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। ছেলের রেজাল্ট সংগ্রহ করে বাড়িতে যাওয়ার আগেই প্রাণ হারান তিনি। যুবকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার ও অভিভাবকরা। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে অসমে‌। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ছেলের স্কুলের সামনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ বছরের এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত যুবকের নাম, দীপঙ্কর বরদলোই। 

তাঁর পরিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ জানুয়ারি। সেদিন অফিসে ছুটি নিয়েছিলেন দীপঙ্কর। তাঁর ছেলের স্কুলে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ছিল সেদিন। ছেলের রেজাল্ট সংগ্রহ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁর। স্কুলের সামনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন দীপঙ্কর। 

মৃত যুবক সোনারিগাঁওয়ের বাসিন্দা ছিলেন। জোহাটের স্যামফর্ড স্কুলের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। স্কুলের গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেছিলেন। আচমকাই স্কুল গেটের বাইরে লুটিয়ে পড়েন। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁর। আশেপাশের লোকেরা তড়িঘড়ি দীপঙ্করকে জোহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মৃত যুবকের পরিবার আরও জানিয়েছে, দীপঙ্কর অসম সরকারি দপ্তরে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী গৃহবধূ। দীপঙ্কর বরাবরই সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। কোনও অসুস্থতা ছিল না। 

প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন বাবা। মাঝ রাস্তায় ঘটে বিপত্তি। বাবার কোলে মাথা রেখেই জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে ১৪ বছরের ছেলে। ছেলের মৃত্যুর আঘাত সইতে না পেরে, তিনিও কয়েক মিনিট পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ছেলের মৃত্যুর কয়েক মিনিট পরেই প্রাণ হারান বাবা। 
 
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল জম্মু ও কাশ্মীরে।‌ মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল রামবান জেলায়। দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের অসুস্থতা নিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন ওই ব্যক্তি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই বাবার কোলে মাথা রেখেই জ্ঞান হারিয়ে, মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে কিশোর। ছেলের অকালমৃত্যুর আঘাত সহ্য করতে না পেরে, তৎক্ষণাৎ হার্ট অ্যাটাক হয় ওই ব্যক্তির। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল বনিহালের তেথার এলাকায় বাবা ও ছেলে কয়েক মিনিটের তফাতে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। ৪৫ বছর বয়সি সাবির আহমেদ গনিয়া ১৪ বছরের ছেলে সাহিল আহমেদকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহিল দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই বাবার কোলে মাথা রেখেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে সাহিল। 

ছেলের অকালমৃত্যুর পরেই, শোকগ্রস্ত সাবির হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। মিনিট কয়েক পর তাঁরও মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে বনিহালের জেলা হাসপাতালে বাবা ও ছেলের মৃতদেহ এনে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। বাবা ও ছেলের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায়, শোকের ছায়া গোটা এলাকায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।