নয়ডায় গত কয়েকদিন ধরে চলা শ্রমিক বিক্ষোভ ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির নেপথ্যে এক 'গভীর ষড়যন্ত্রের' ইঙ্গিত পেল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, স্বল্প বেতনের দাবিতে চলা এই আন্দোলন আসলে তিনটি সংগঠিত গোষ্ঠীর পরিকল্পনা, যেখানে ‘বহিরাগত’ শক্তির ইন্ধন ছিল স্পষ্ট। এই গোষ্ঠীগুলো কারখানা জোর করে বন্ধ করতে বাধ্য করছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়িয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ।
2
8
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১৭টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে কর্মীদের খেপিয়ে তোলা হয়েছিল। এই ঘটনার ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এখন নয়ডা পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞদের স্ক্যানারে।
3
8
উত্তরপ্রদেশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হিংসার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬৬ জনের মধ্যে ৪৫ জনই আদতে কোনও কারখানার শ্রমিক নন। অর্থাৎ, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চিহ্নিত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশেরই শ্রমিক পরিচয়ের কোনও ভিত্তি নেই।
4
8
উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি রাজীব কৃষ্ণ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কিছু প্রোফাইলের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
5
8
উল্লেখ্য, সোমবার নয়ডার ৮৩টি জায়গায় প্রায় ৪২,০০০ শ্রমিক বেতন বৃদ্ধি ও কাজের উন্নত পরিবেশের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকেই হাতিয়ার করে কিছু সংগঠন পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে বলে পুলিশের দাবি।
6
8
তবে উত্তেজনার আবহে রাজ্য সরকার কিছুটা নমনীয় হয়ে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদে অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক বেতন ১১,৩১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,৬৯০ টাকা করা হয়েছে।
7
8
একইভাবে আধা-দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি টহলদারি ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে।
8
8
তদন্তে উঠে এসেছে ‘মজদুর বিগুল দস্তা’ নামক একটি বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের নাম। এই সংগঠনের সদস্য রূপেশ রাইকে এই ঘটনার মূল পাণ্ডা হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রূপেশের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই এই বিক্ষোভের ছক কষা হচ্ছিল এবং একাধিক শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে গোপনে বৈঠকও করা হয়েছিল।