হার্ট অ্যাটাকে 'গোল্ডেন আওয়ার' কী? এই সময় প্রতিটা সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ কেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৪ : ২৩
শেয়ার করুন
1
16
হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৫০ শতাংশ হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই মারা যান। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রথম ৪ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
2
16
হৃৎপিণ্ডে তিনটি করোনারি ধমনী থাকে। এই তিনটি ধমনীর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন হয়।
3
16
রক্ত জমাট বেঁধে, তিনটি ধমনীর মধ্যে যে কোনও একটি ধমনী যদি হঠাৎ ১০০% বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বলা হয় হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।
4
16
কীভাবে বুঝবেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে? এর প্রধান লক্ষণ বুকের মাঝখানে ব্যথা (যা মূলত এক ধরনের অস্বস্তি), অথবা বুকে কোনো ভারি কিছু চাপার মতো অনুভূতি হওয়া কিংবা বুকে জ্বালাপোড়া।
5
16
বুকে ব্যথা বা এই অস্বস্তি ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
6
16
এই সময় অতিরিক্ত ঘাম হয়৷ শরীরে প্রবল অস্থিরতা থাকে৷ শ্বাসকষ্ট অথবা এক তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়৷
7
16
এই ব্যথা একটি বা দু'টি কাঁধে এবং কখনও কখনও ঘাড় ও চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ার মতো অনুভূতি দেখা যায়।
8
16
বয়স্ক এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা অপেক্ষা শ্বাসকষ্ট আর ঘাম বেশি হতে পারে৷ ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রেও একই লক্ষণ দেখা যায়৷
9
16
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর প্রথম ৪ ঘন্টাকে গোল্ডেন আওয়ার বলা হয়। এই সময় প্রতি ঘণ্টায় হৃৎপিণ্ডের পেশী আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ যত বেশি হয়, জীবনের ঝুঁকিও তত বাড়ে।
10
16
প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যে হৃৎস্পন্দনে মারাত্মক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যার ফলে হার্ট ব্লক হতে পারে এবং হৃৎস্পন্দন কমে যেতে পারে।
11
16
অনেক পরিস্থিতিই শুধুমাত্র আইসিইউ-তে অস্থায়ী পেসমেকার এবং ডিফিব্রিলেটরের সাহায্যে সামলানো সম্ভব, এবং তাই দ্রুত আইসিইউ-তে ভর্তি করাই প্রথম পদক্ষেপ।
12
16
রক্ত জমাট বাঁধারর কারণে ১০০% অবরুদ্ধ করোনারি ধমনী অবিলম্বে খুলে দেওয়া প্রয়োজন।এক্ষেত্রে সর্বোত্তম পদ্ধতি হল করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি এবং স্টেন্টিং। এটি বহু জীবন বাঁচায় এবং হৃৎপেশীর ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম করে৷
13
16
বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার পর দ্রুত কার্ডিয়াক ক্যাথ-ল্যাবে (যা ২৪x৭ চালু থাকে) পৌঁছোলে জীবন বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেকটাই৷
14
16
রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে এর ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি এবং স্টেন্টিং করা উচিত। একে ফার্মাকো-ইনভেসিভ অ্যাপ্রোচ বলা হয়।
হার্ট অ্যাটাকের ৪৮ ঘণ্টার পর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি এবং স্টেন্টিং করলেও বিশেষ লাভ হয় না।
15
16
সাধারণত ৫০-৬০ বছর বয়সের পর এই ধনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বয়সই একমাত্র কারণ নয়।
16
16
উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়া, অলস জীবনযাপন, মানসিক উদ্বেগ ধমনীর পথ আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ এই সব কারণেই অনেক সময় কম বয়সেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।