এক বছরে পাঁচ বা তার বেশি ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িক ভাবে বাতিল হতে পারে। নতুন বছরে মোটর ভেহিকেল রুলসের আওতায় আরও কড়া ট্রাফিক আইন করল কেন্দ্র। কঠোর নিয়মেই চালকদের সতর্ক করা ও সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করল কেন্দ্র।
2
5
নতুন এই নির্দেশিকা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে কোনও চালক একই বছরের মধ্যে বারবার ট্র্যাফিক নিয়ম ভাঙলে আঞ্চলিক পরিবহন কার্যালয় (RTO) বা জেলা পরিবহন কার্যালয় (DTO) দোষী চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে। নতুন ব্যবস্থায় ই-চালানই যথেষ্ট লাইসেন্স বাতিলের জন্য। এর আগে, লাইসেন্স স্থগিত করার ক্ষমতা মূলত বেপরোয়া গাড়ি চালানো বা গাড়ি চুরির মতো গুরুতর অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
3
5
তবে, লাইসেন্স কতদিনের জন্য সাসপেন্ড থাকবে, তা ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করার আগে চালককে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে, এ কথাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
4
5
কোন কোন অপরাধ ধরা হবে? বর্তমানে মোট ২৪টি ট্রাফিক অপরাধকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে যে কোনও পাঁচটি এক বছরের মধ্যে ঘটলে লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, হেলমেট বা সিটবেল্ট না পরা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, প্রকাশ্য রাস্তায় বেআইনি পার্কিং, অতিরিক্ত বোঝা বহন, গাড়ি চুরি, সহযাত্রীদের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণ ইত্যাদি। অর্থাৎ ছোটখাটো অপরাধের সমন্বয় হলেও সংখ্যাটি পাঁচে পৌঁছলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
5
5
নতুন নিয়মে ‘টোল বকেয়া’-র সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬ অনুযায়ী, বকেয়া টোল থাকলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। টোল না দিলে আন্তঃরাজ্য গাড়ি স্থানান্তরের জন্য 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' মিলবে না, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণ হবে না এবং বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিটও আটকে যাবে। কোনও গাড়ি টোল প্লাজা পার হয়ে গেলেও যদি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টাকা কাটা না পড়ে, তা হলেও সেই অর্থ বকেয়া হিসেবেই ধরা হবে। কেন্দ্রের দাবি, এই ব্যবস্থায় জাতীয় সড়কে টোল ফাঁকি রোখা অনেকটাই সহজ হবে।