অনেকেই দেখেন, চাকরিতে বেতন বাড়লেও সেভিংস বা সঞ্চয় তেমন বাড়ে না। বরং মাসের শেষে আবারও টাকার টান পড়ে। তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, বেতন তো বেড়েছে, তবু টাকা জমছে না কেন? এই সমস্যার পেছনে একটি বড় কারণ হল ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’ বা জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়া।
2
10
লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন বলতে বোঝায়, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের খরচের পরিমাণও ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়া। আগে যেসব জিনিস ছাড়া সহজেই চলত, বেতন বাড়ার পর সেগুলোই প্রয়োজন বলে মনে হতে শুরু করে। ফলে আয় বাড়লেও খরচও একই গতিতে বাড়ে, আর সঞ্চয় করার সুযোগ কমে যায়।
3
10
ধরুন, আগে আপনি সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করতেন। কিন্তু বেতন বাড়তেই দামি স্মার্টফোন কিনলেন। আগে হয়তো মাসে একবার বাইরে খেতে যেতেন, এখন তা সপ্তাহে দুই-তিনবার হয়ে গেল।
4
10
আবার কেউ কেউ বেতন বাড়ার পর বড় বাড়ি ভাড়া নেন, দামি গাড়ি কেনেন বা ব্র্যান্ডেড জামাকাপড় কিনতে শুরু করেন। এই ছোট ছোট পরিবর্তনই ধীরে ধীরে বড় খরচে পরিণত হয়। ফলে বাড়তি যে টাকা পাওয়া যায়, তা সবই খরচ হয়ে যায়।
5
10
আরও একটি বড় সমস্যা হল পরিকল্পনার অভাব। অনেকেই বেতন বাড়ার পর নতুন করে বাজেট বানান না। ফলে আয়ের কতটা খরচ হবে আর কতটা সঞ্চয় হবে, তা ঠিক করে রাখা হয় না। এতে অজান্তেই অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে থাকে।
6
10
তবে চাইলে খুব সহজ কয়েকটি উপায়ে লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন থেকে বাঁচা যায়। যেমন-
7
10
বেতন বাড়লে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি সঞ্চয়ের জন্য রেখে দেওয়া উচিত। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, আয়ের অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সেভিংস বা বিনিয়োগে রাখা ভাল।
8
10
নতুন কিছু কেনার আগে একটু ভেবে দেখা দরকার যে এটি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি শুধু ইচ্ছা? এই প্রশ্নটি নিজেকে করলে অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ সহজেই কমে যায়।
9
10
মাসিক একটি পরিষ্কার বাজেট তৈরি করা খুবই জরুরি। এতে বোঝা যায় কোথায় বেশি খরচ হচ্ছে এবং কোথায় কমানো সম্ভব।
10
10
সবশেষে মনে রাখা দরকার, শুধু বেশি টাকা রোজগার করলেই আর্থিক নিরাপত্তা আসে না। সেই টাকা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কতটা সঞ্চয় করা হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়।