এই জিনিস চুষলেই পালাবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা, কতটা কার্যকর এই প্রাচীন পদ্ধতি?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫ : ০৩
শেয়ার করুন
1
5
তেঁতুল- বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত এক উপাদান- শুধু স্বাদের জন্য নয়, বহু প্রাচীনকাল ধরেই চিকিৎসায় এর ব্যবহার চলে আসছে। সাম্প্রতিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও গবেষণাও দেখাচ্ছে, তেঁতুল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে একটি অত্যন্ত কার্যকর, প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী উপায় হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি হজমশক্তি বাড়ানো, শরীরের প্রদাহ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন উপশমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে এই টক-মিষ্টি ফল।
2
5
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেঁতুলে থাকা টারটারিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম এবং প্রচুর ফাইবার অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তেঁতুলের শাঁস প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে, যা মলত্যাগকে উদ্দীপিত করে এবং দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যে আরাম দেয়। নিয়মিত অল্প পরিমাণে তেঁতুল গ্রহণ হজমতন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
3
5
তেঁতুল শুধু হজমের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম, যা হাড় ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। ভিটামিন C, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই পুষ্টিগুণের জন্য তেঁতুলকে অনেকেই “প্রাকৃতিক টনিক” হিসেবেও বিবেচনা করেন।
4
5
তেঁতুলে থাকা পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে জয়েন্টের ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তি এবং মাথাব্যথার ক্ষেত্রে কিছুটা উপশম পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, তেঁতুল সরাসরি মাইগ্রেনের ওষুধ নয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুলের বীজ থেকে প্রাপ্ত এক ধরনের পলিস্যাকারাইড ভবিষ্যতে মাইগ্রেনের ওষুধ শরীরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ড্রাগ ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ, মাইগ্রেনের চিকিৎসায় তেঁতুলের ভূমিকা পরোক্ষ হলেও গবেষণার দৃষ্টিতে তা গুরুত্বপূর্ণ।
5
5
কীভাবে ব্যবহার করবেন? তেঁতুলের জল বা পানীয়: অল্প তেঁতুল গরম জলে ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিয়ে পান করলে হজমে সাহায্য করে। চাটনি, ডাল, ঝোল কিংবা দক্ষিণ ভারতীয় সাম্বারে তেঁতুল নিয়মিত ব্যবহৃত হয়, যা স্বাদের পাশাপাশি হজমেও উপকারী। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তেঁতুল সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা তীব্র মাথাব্যথার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।