তারকাখ্যাতির আড়ালে বিজ্ঞান, দর্শন আর স্বপ্ন! জন্মদিনে সুশান্তকে নতুন করে চেনা
নিজস্ব সংবাদদাতা
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১ : ০৯
শেয়ার করুন
1
9
১৪ জুন, ২০২০। হঠাৎই নিভে যায় সুশান্ত সিং রাজপুতের জীবনপ্রদীপ। সেই অকাল প্রস্থানে গোটা দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। অভিনেতার জীবনযাপন, কাজের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং রহস্যে মোড়া মৃত্যুকে ঘিরে কৌতূহল আজও ফুরোয়নি। তিনি বেঁচে থাকলে ২১ জানুয়ারি পা দিতেন ৪০ বছরে। সুশান্তের জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর জীবনের কিছু অজানা তথ্য।
2
9
শৈশব থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত কৃতী ছিলেন সুশান্ত। জাতীয় স্তরের ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে তিনি উচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন। বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহ শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আজীবন সেই আগ্রহই তাঁর চিন্তাভাবনা ও জীবনদর্শনকে প্রভাবিত করেছে।
3
9
দিল্লি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রবেশিকা পরীক্ষায় সারা ভারত জুড়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেছিলেন সুশান্ত। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েও সেই কেরিয়ার ছেড়ে অভিনয়ের পথে পা বাড়ানো কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। আত্মবিশ্বাস এবং নিজের স্বপ্নকে বেছে নেওয়ার সাহস থেকেই তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
4
9
মহাকাশ ও নক্ষত্রজগতের প্রতি ছিল সুশান্তের গভীর ভালোবাসা। তাঁর কাছে ছিল একটি পেশাদার মানের টেলিস্কোপ, যার মাধ্যমে নিয়মিত তিনি রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ করতেন। এই আগ্রহ নিছক শখের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সময়, মহাবিশ্ব এবং মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে তাঁর গভীর চিন্তারই প্রতিফলন ছিল এটি।
5
9
প্রয়াত মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে সুশান্ত একটি চাঁদের গহ্বর নিয়ে হওয়া বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আর্থিক সহায়তা করেছিলেন, যা তাঁর মায়ের নামেই উৎসর্গ করা হয়। বিজ্ঞান, স্মৃতি ও আবেগ, এই তিনকে একসূত্রে বাঁধার এই উদ্যোগ তাঁর গভীরতারই প্রমাণ।
6
9
সুশান্ত জীবনের ৫০টি লক্ষ্য নিয়ে নিজের হাতে লেখা একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। বিমান চালানো, মার্শাল আর্টে দক্ষতা অর্জন কিংবা মানব মনের রহস্য অন্বেষণ, এই লক্ষ্যগুলি কেবল সাদা কাগজে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিটা লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি নিয়মিত পরিশ্রম ও পরিকল্পনা করতেন।
7
9
পেশাদারভাবে ফ্লাইং ট্রেনিং নিচ্ছিলেন এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলট হওয়ার পথে এগোচ্ছিলেন সুশান্ত। তাঁর কাছে উড়ান মানে ছিল স্বাধীনতা। শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে ওঠার প্রতীক।
8
9
সুশান্ত ছিলেন একনিষ্ঠ পাঠক। কোয়ান্টাম ফিজিক্স, নিউরোসায়েন্স, দর্শন, আত্মজীবনী, বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ে ভরা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। তিনি বইয়ে নোট লিখতেন, বারবার পড়তেন এবং শেখাকে আজীবনের সঙ্গী করে নিয়েছিলেন।
9
9
কোনও প্রচার ছাড়াই তিনি পিছিয়ে পড়া শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা করতেন। সুশান্ত বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত দান প্রচারের মুখাপেক্ষী নয়। তাঁর মৃত্যুর পরেই সামনে আসে এই মানবিক দিকটি, যা তাঁকে আরও আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।