ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস অবশেষে অবসরে গেলেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের ক্যারিয়ার, তিনটি আইকনিক মহাকাশ মিশন এবং মোট ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানোর পর তাঁর অবসর যেন এক যুগের সমাপ্তি। তিনি শুধু মার্কিন মহাকাশ গবেষণার নয়, বিশ্বের মানব-মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
2
9
১৯৯৮ সালে নাসায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই উইলিয়ামস কঠিন প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতার মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করে তোলেন। তাঁর প্রথম বড় যাত্রা ছিল ২০০৬ সালে স্পেস শাটল ডিসকভারি মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানো। সেখানে তিনি প্রায় ছয় মাস ছিলেন এবং একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও স্পেসওয়াক করেন।
3
9
এরপর ২০১২ সালে সোয়ুজ মহাকাশযানে দ্বিতীয়বার আইএসএস-এ যান। ওই সময় তিনি নারী মহাকাশচারীদের মধ্যে সর্বাধিক স্পেসওয়াক এবং মোট অবস্থানকালীন রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর রেকর্ড ভাঙা হলেও উইলিয়ামসের সাফল্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে যায়।
4
9
তাঁর কেরিয়ারের তৃতীয় বড় অধ্যায় আসে বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও। বাণিজ্যিক মহাকাশযাত্রা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি বোয়িং স্টারলাইনারের মাধ্যমে মানব-মহাকাশযাত্রার নতুন দিগন্তে যুক্ত হন। এর ফলে ন্যাসা শুধু স্পেস শাটলের ওপর নির্ভরতা কমায়নি, বাণিজ্যিক সক্ষমতার ভবিষ্যতকেও এগিয়ে নিয়েছে—যেখানে উইলিয়ামস ছিলেন একজন ইতিহাস-গড়া ক্রু সদস্য।
5
9
মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহণ একসময় খুবই সীমিত ছিল। সেই বাস্তবতায় উইলিয়ামস এমন এক পথ তৈরি করেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের নারী বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশচারীদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে তিনি ভারতীয় ও ভারতীয়-আমেরিকান মহলেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধান নিয়ে তাঁর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করত।
6
9
তাঁর শৈশব, সামরিক পটভূমি, নৌবাহিনীতে সেবা এবং পরে নাসা—সব মিলিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে দৃঢ়তা ও অধ্যবসায় থাকলে মহাশূন্যও নাগালের বাইরে নয়।
7
9
উইলিয়ামসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হল মহাকাশে তাঁর মোট ৬০৮ দিন অবস্থান। এটি তাঁকে বিশ্বের দীর্ঘতম সময় মহাকাশে থাকা নারী মহাকাশচারীদের মধ্যে অন্যতম স্থানে নিয়ে গেছে। আইএসএস-এ অবস্থানকালে তিনি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, জীববিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত গবেষণা, স্পেসওয়াক, মহাকাশযান রক্ষণাবেক্ষণ—সবক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন।
8
9
অবসর ঘোষণার পর উইলিয়ামস বলেছেন, এটি তাঁর কাছে “শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের শুরু।” বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর আগেই প্রকাশ পেয়েছে। নাসা ও বৈজ্ঞানিক মহল তাঁর অবদান ও ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
9
9
সুনীতা উইলিয়ামস শুধু মহাকাশচারী নন—তিনি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোর এক প্রতীক। তাঁর ২৭ বছরের কর্মজীবন মহাকাশ গবেষণাকে মানবিক করেছে, নারী অংশগ্রহণকে বাড়িয়েছে এবং ভারতীয় উৎসের মানুষের গর্বের কারণ হয়ে আছে। তাঁর বিদায় তাই কেবল নাসার জন্য নয়, মহাকাশ বিশ্বের জন্যই আবেগের মুহূর্ত।