খেয়াল করে দেখেছেন নিশ্চয়ই, টিয়া পাখি মানুষের গলার আওয়াজ নকল করতে পারে। কেউ 'হ্যালো' বলে, কেউ আবার 'কী করছ?' বা 'ভাল আছো?'-এমন শব্দও বলে। অনেক সময় মনে হয়, টিয়া যেন সত্যিই মানুষের মতো কথা বলছে। কিন্তু সত্যি মানুষের ভাষা বোঝে এই পাখি?
2
10
আসলে বিষয়টা একটু আলাদা। টিয়া পাখি বেশিরভাগ সময় শব্দ নকল করে, কথার পুরো মানে বুঝে বলে না। টিয়া পাখির শরীরে মানুষের মতো স্বরযন্ত্র নেই।
3
10
মানুষের গলায় যেমন ভোকাল কর্ড থাকে, টিয়ার শরীরে তেমন নেই। তাদের শরীরে একটি বিশেষ অঙ্গ আছে, যার নাম ‘সিরিংক্স’। এই অঙ্গের সাহায্যে তারা নানা ধরনের শব্দ খুব স্পষ্টভাবে তৈরি করতে পারে। তাই মানুষের গলার স্বর, হাসির আওয়াজ, ফোনের রিংটোন, প্রেসার কুকারের সিটি, এমনকী দরজার ঘণ্টার শব্দও তারা নকল করতে পারে।
4
10
প্রকৃতিতে টিয়া পাখি খুব সামাজিক প্রাণী। তারা সাধারণত দলে দলে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে নানা ডাকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। এই ডাকের সাহায্যে তারা বিপদের খবর দেয়, খাবারের খোঁজ জানায় বা একে অপরকে চিনতে পারে।
5
10
যখন টিয়া পাখি মানুষের বাড়িতে থাকে, তখন সে মানুষকেই নিজের দলের সদস্য মনে করতে শুরু করে। তাই সে মানুষের কথা বারবার শুনে সেই শব্দগুলো শিখে নেয়।
6
10
যেমন ধরুন, বাড়িতে কেউ দরজা খুলে ঢুকলেই সবাই 'হ্যালো'বলে। টিয়া এই দৃশ্য বারবার দেখে এবং শব্দটি শুনে মনে রাখে। পরে কেউ ঢুকলেই সেও 'হ্যালো' বলে দেয়। এতে মনে হয় সে বুঝে বলছে, কিন্তু আসলে সে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে শব্দটি জুড়ে ফেলেছে। অর্থাৎ পুরো ভাষার মানে না বুঝলেও কখন কোন শব্দ বলতে হয়, সেটা অভ্যাস থেকে শিখে নেয়।
7
10
তবে সব টিয়া একরকম নয়। কিছু বিশেষ প্রজাতি, যেমন আফ্রিকান গ্রে প্যারট, অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তারা কিছু সহজ জিনিস চিনতে পারে, রং আলাদা করতে পারে, এমনকি কিছু সাধারণ নির্দেশও বুঝতে পারে। কিন্তু তবুও তারা মানুষের মতো ভাষা, আবেগ বা জটিল চিন্তার মানে পুরোপুরি বোঝে না।
8
10
বিশেষজ্ঞরা বলেন, টিয়া পাখির কথা বলা আসলে তাদের অনুকরণ করার ক্ষমতা। এটি তাদের বুদ্ধি এবং সামাজিক স্বভাবের পরিচয়।
9
10
টিয়া মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চায় বলেই এইভাবে শব্দ শেখে। তাই টিয়া পাখি যখন 'ভালবাসি' বা 'খাবার দাও' বলে, তখন শুনতে খুব মজার লাগে।
10
10
মনে রাখতে হবে, সে শব্দটি শিখেছে। মানুষের মতো অনুভূতি বুঝে বলছে না। তবুও এই মিষ্টি নকলই টিয়াকে আরও বেশি প্রিয় করে তোলে।