আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও ১১ জুলাই, শনিবার দেশের খুচরো বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তেলের দাম স্থিতিশীল থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর মিলেছে।
2
15
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারেও।
3
15
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ০.৪১ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৭৫.৯৯ ডলারে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।
4
15
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক আলোচনা চলায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
5
15
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জুন মাসে হওয়া সামরিক সংঘর্ষবিরতির চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে।
6
15
মার্কিন প্রশাসন চাইছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করুক যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়েছে।
7
15
এদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ এখনও আগের তুলনায় কম, তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি, চীনে তেলের চাহিদা বাড়ারও ইঙ্গিত মিলছে।
8
15
দেশের বিভিন্ন শহরে শনিবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.২০ টাকা।
9
15
কলকাতায় পেট্রোল ১১৩.৫১ টাকা ও ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা। মুম্বইয়ে পেট্রোল ১১১.২১ টাকা এবং ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা।
10
15
চেন্নাইয়ে পেট্রোলের দাম ১০৭.৭৬ টাকা, ডিজেলের দাম ৯৯.৫৫ টাকা। এছাড়া হায়দরাবাদে পেট্রোল ১১৫.৬৯ টাকা এবং ডিজেল ১০৩.৮২ টাকা, আর তিরুবনন্তপুরমে যথাক্রমে ১১৫.৪৯ টাকা ও ১০৪.৪০ টাকা রয়েছে।
11
15
অন্যদিকে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, ভারত হঠাৎ করে ইথানল মিশ্রণের পথে হাঁটেনি, বরং এই কর্মসূচি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
12
15
সরকার জানিয়েছে, ২০০১ সালে প্রথম ইথানল মিশ্রণের পাইলট প্রকল্প চালু হয়। এরপর ২০০৪ সালে বায়োফুয়েল কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং ২০০৬ সাল থেকে বিভিন্ন রাজ্যে ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়।
13
15
প্রথম দিকে দেশের ইথানল উৎপাদন মূলত আখের উপর নির্ভরশীল ছিল এবং উৎপাদন ক্ষমতা ছিল প্রায় ৪০০ কোটি লিটার, যা উচ্চমাত্রার মিশ্রণের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
14
15
২০১৮ সালের মে মাসে জাতীয় বায়োফুয়েল নীতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। এই নীতির মাধ্যমে ইথানল উৎপাদনের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হয় এবং বিকল্প কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
15
15
কেন্দ্রের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলেই বর্তমানে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে সরকারের মতে, এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি আমদানি কমানো, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।