সরকারের লক্ষ্য কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং বড় আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়ানো। ফলে আয়কর নিয়ম ২০২৬ অনুযায়ী প্যান কার্ড সংক্রান্ত একাধিক আর্থিক লেনদেনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন বেশকিছু কিছু ক্ষেত্রে প্যান দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে, আবার অনেক উচ্চমূল্যের লেনদেনে প্যান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
2
8
আগে প্যান না থাকলে ফর্ম-৬০ ব্যবহার করা যেত, কিন্তু এখন তার জায়গায় নতুন ফর্ম-৯৭ চালু হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে ফর্ম-৯৭ গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সাধারণ মানুষের নতুন নিয়মগুলি জানা অত্যন্ত জরুরি।
3
8
কোন কোন লেনদেনে ছাড়? সরকার এমন কিছু লেনদেনে ছাড় দিয়েছে, যেখানে আগে প্যান দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এখন কিছু ছোট ও সাধারণ আর্থিক লেনদেন প্যান রিপোর্টিংয়ের বাইরে রাখা হয়েছে। যেমন বিদেশি মুদ্রা কেনা, ব্যাঙ্ক ড্রাফট এবং কিছু প্রিপেইড পেমেন্ট ইন্সট্রুমেন্ট সংক্রান্ত লেনদেনে আগের মতো কড়াকড়ি থাকবে না। এর ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন ছোট আর্থিক কাজ সহজে করতে পারবেন। সরকারের মতে, কম ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনে অতিরিক্ত নথিপত্রের চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও দ্রুত হতে পারে।
4
8
২ লক্ষ টাকার বেশি কেনাকাটায় প্যান বাধ্যতামূলক: নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য বা পরিষেবা কিনলে প্যান দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। সরকার এই ধরনের বড় খরচের উপর নজর রাখতে চায়, যাতে কর ফাঁকি রোধ করা যায়।কেউ যদি দামি পণ্য কেনেন, তাহলে সেই তথ্য সরাসরি আয়কর দপ্তরের নজরে যেতে পারে। বিশেষ করে সোনার গয়না, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনে এর প্রভাব বেশি পড়বে। সরকারের দাবি, এতে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অঘোষিত টাকার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
5
8
সোনার গয়না কেনার নিয়ম আরও কড়াকড়ি: সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রেও নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। কেউ যদি ২ লক্ষ টাকার বেশি সোনা কেনেন, তাহলে প্যান দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। এখানে ফর্ম-৯৭ ব্যবহার করা যাবে না। সরকার উচ্চমূল্যের সোনা কেনাবেচার উপর বিশেষ নজর রাখতে চায়, কারণ এই ধরনের লেনদেনে কালো টাকার ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীদেরও এমন গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। তাই দামি গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই প্যান প্রস্তুত রাখা জরুরি।
6
8
বিনিয়োগে প্যান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক ক্ষেত্রে প্যান এখন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা, ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন এবং ৫০ হাজার টাকার বেশি মিউচুয়াল ফান্ড বা বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্যান লাগবে। সরকার চায় সব বড় বিনিয়োগ সংক্রান্ত লেনদেন প্যান-এর সঙ্গে যুক্ত থাকুক। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের সঠিক পরিচয় বজায় থাকবে এবং কর সংক্রান্ত অনিয়ম কমবে। প্যান ছাড়া এখন এই ধরনের বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই প্যান ও আধার সংক্রান্ত তথ্য আপডেট রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
7
8
ফর্ম-৬০ -এর বদলে এল ফর্ম-৯৭: পুরনো ফর্ম-৬০ সরিয়ে এখন নতুন ফর্ম-৯৭ চালু করা হয়েছে। এই ফর্মকে আরও ডিজিটাল এবং সহজ বলা হচ্ছে। এতে অনেক তথ্য আগে থেকেই পূরণ করা থাকতে পারে, ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, উচ্চমূল্যের লেনদেনে শুধুমাত্র ফর্ম-৯৭ যথেষ্ট নয়, সেখানে প্যান দিতেই হবে। অর্থাৎ সীমিত ক্ষেত্রেই ফর্ম-৯৭ ব্যবহার করা যাবে।
8
8
সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে? নতুন প্যান নিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষ, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের উপর। বড় আর্থিক লেনদেন এখন প্যান ছাড়া করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই যাঁদের এখনও প্যান নেই, তাঁদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্যান-আধার সংযোগ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও সময়মতো সম্পূর্ণ করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রায় সমস্ত বড় আর্থিক লেনদেন প্যান-এর সঙ্গে যুক্ত করার দিকেই সরকার আরও পদক্ষেপ নিতে পারে।