ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের প্লাস্টিকের ব্যাঙ্কনোট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিকের নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
2
10
যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে কাগজের নোটের পরিবর্তে প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নোট কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব।
3
10
প্লাস্টিকের নোট আসলে বিশেষ ধরনের পলিমার দিয়ে তৈরি হয়। এই উপাদান সাধারণ কাগজের মতো সহজে ছিঁড়ে যায় না এবং জল বা আর্দ্রতার প্রভাবেও নষ্ট হয় না। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলেও নোটের মান বজায় থাকে।
4
10
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দীর্ঘস্থায়িত্ব। একটি কাগজের নোট যতদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে, একটি পলিমার নোট তার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় ব্যবহার করা যায়। এর ফলে বারবার নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমে যায় এবং মুদ্রণ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
5
10
প্লাস্টিকের নোটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নিরাপত্তা। এই নোটে স্বচ্ছতা, উন্নত হোলোগ্রাম, বিশেষ কালি এবং আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়, যা জাল নোট তৈরি করা অনেক কঠিন করে তোলে। ফলে নকল নোটের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
6
10
এছাড়া প্লাস্টিকের নোট জলরোধী ও ময়লা প্রতিরোধী। বৃষ্টি, ঘাম বা দুর্ঘটনাবশত জল পড়লেও নোট সহজে নষ্ট হয় না। ধুলো-ময়লা কম জমে এবং পরিষ্কার রাখা তুলনামূলক সহজ হয়। ফলে স্বাস্থ্যবিধির দিক থেকেও এগুলি কাগজের নোটের তুলনায় বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়।
7
10
বিশ্বের বহু দেশ ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার নোট চালু করেছিল। বর্তমানে কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, রোমানিয়া, ভিয়েতনামসহ ৫০টিরও বেশি দেশে প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব দেশে জাল নোট কমানো এবং নোটের আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল মিলেছে।
8
10
ভারতে এর আগে ২০১১ সালে সীমিত আকারে প্লাস্টিকের নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার RBI নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও এই উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতিতে প্লাস্টিকের নোট চালু হলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের মুদ্রণ ব্যয় কমবে এবং নগদ লেনদেন আরও নিরাপদ হবে।
9
10
তবে সব দিকই যে ইতিবাচক, তা নয়। প্লাস্টিকের নোট তৈরির প্রাথমিক খরচ কাগজের নোটের তুলনায় বেশি। এছাড়া ব্যবহারের শেষে এগুলি পুনর্ব্যবহার করার জন্য আলাদা অবকাঠামোরও প্রয়োজন হবে। তাই ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে RBI।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হয়, তাহলে আগামী দিনে ভারতেও ধীরে ধীরে পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়তে পারে। এতে জাল নোট রোধ, মুদ্রণ ব্যয় কমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।