মঙ্গলবার পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে দেখা গেল শক্তিশালী উত্থান। আগের সেশনে বড় পতনের পর এদিন বেঞ্চমার্ক সূচকগুলোতে তীব্র উত্থান দেখা যায়। মূলত ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার আশায় বিনিয়োগকারীদের মনোবল ফিরে আসে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের পতনও এই উত্থানকে সমর্থন করেছে।
2
10
পাকিস্তানের প্রধান সূচক এদিন সর্বোচ্চ ৪,৯৭৭ পয়েন্ট বা প্রায় ৩% বেড়ে ইন্ট্রাডে ১,৬৫,১৫০.৩৮-এ পৌঁছায়। আগের সেশনে সূচকটি ৪%-এর বেশি পড়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, গত এক মাসে সূচকটি প্রায় ৭.৫% বেড়েছে, যদিও তিন মাসে এখনও ৯% নিচে রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গত এক বছরে এটি ৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
3
10
একইভাবে, বৃহত্তর সূচকও শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে। এটি ১,৫৩৭ পয়েন্ট বা প্রায় ৩% বেড়ে ৫০,০০১.৩৮-এ পৌঁছায়। গত এক মাসে সূচকটি ৬% বেড়েছে, যদিও তিন মাসে ১১% কমেছে। এক বছরের হিসাবে এটি ৪০% লাভ দিয়েছে এবং গত পাঁচ বছরে ১৬৯% পর্যন্ত মাল্টিব্যাগার রিটার্ন দিয়েছে।
4
10
এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। জাপানের বাজার ২.৪% বেড়ে ৫৭,৮৭৭.৩৯-এ বন্ধ হয়। হংকংয়ের বাজার ০.৮% বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,৮৭২.৩২-এ পৌঁছায় এবং চীনের বাজার ১% বেড়ে ৪,০২৬.৬৩-এ উঠে যায়। ইউরোপের বাজারও ০.৩% বৃদ্ধি পায়।
5
10
এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা। যদিও সপ্তাহান্তে হওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, তবুও দুই দেশই ভবিষ্যৎ আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে বলে জানা গেছে।
6
10
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না।
7
10
তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। হরমুজে মার্কিন অবরোধ জারি রয়েছে এবং তা ওমান ও আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে কিছু জাহাজকে ঘুরে যেতে দেখা গেছে। তবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি সরাসরি অংশ না নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
8
10
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত নতুন করে বৈঠক হতে পারে।
9
10
তেলের দামের পতনও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্রেন্ট এবং ডাব্লুটিআই উভয় ক্রুড তেলের দাম ২%-এর বেশি কমেছে, যা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ বাড়িয়েছে।
10
10
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক পতনের পর সস্তায় শেয়ার কেনা, কমতে থাকা তেলের দাম এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা—এই তিনটি বড় কারণ পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে এই শক্তিশালী উত্থান ঘটিয়েছে।