নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭ শুরু হল বুধবার, ১ এপ্রিল থেকে। আর এই সূচনার সঙ্গেই দেশে কার্যকর হচ্ছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, আয়-ব্যয় ও সঞ্চয়ের ওপর।
2
7
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে আয়কর ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কার। দীর্ঘ ছয় দশকের পুরনো আয়কর আইনের জায়গায় চালু হচ্ছে নতুন আয়কর আইন ২০২৫। এই নতুন আইনে জটিল ও পুরনো ধারা সরিয়ে ভাষাকে অনেক সহজ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ করদাতারা সহজে বুঝতে পারেন। তবে স্বস্তির বিষয়, করের স্ল্যাব রেটে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
3
7
অন্যদিকে, শ্রম আইন সংক্রান্ত বড় পরিবর্তনও কার্যকর হচ্ছে। সরকারের আনা চারটি নতুন শ্রম কোডের আওতায় এখন থেকে কর্মীদের বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ ‘বেসিক পে’ হিসেবে নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক। এর ফলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অবদান বাড়বে, যদিও হাতে পাওয়া বেতন কিছুটা কমে যেতে পারে।
4
7
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও এসেছে কিছু নতুন নিয়ম। উদাহরণস্বরূপ, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এখন থেকে এটিএমের মাধ্যমে ইউপিআই ক্যাশ উইথড্রয়ালে পাঁচটি ফ্রি লেনদেনের পর প্রতি ট্রানজ্যাকশনে ২৩ টাকা চার্জ নেবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এটিএম থেকে নগদ তোলার সীমা ও চার্জ কাঠামোয় পরিবর্তন আনছে, যা গ্রাহকদের খেয়াল রাখা জরুরি।
5
7
এছাড়া, কর সংক্রান্ত নথিপত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এতদিনের পরিচিত ফর্ম ১৬-এর বদলে এখন থেকে চালু হচ্ছে নতুন ফর্ম ১৩০, যা হবে টিডিএস সার্টিফিকেট হিসেবে মূল নথি। এই ফর্মটি বেতনভোগী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কগুলি প্রদান করবে। প্রতি অর্থবর্ষে ১৫ জুনের মধ্যে এই সার্টিফিকেট দেওয়া বাধ্যতামূলক।
6
7
বাড়িভাড়া ভাতা সংক্রান্ত নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা করদাতাদের কর সাশ্রয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে ভারতীয় রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থাতেও কিছু নতুন সংস্কার চালু হয়েছে, যা যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
7
7
সব মিলিয়ে, নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই একাধিক বড় নীতিগত পরিবর্তন কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবারই আর্থিক পরিকল্পনায় নতুন করে ভাবতে হবে। এই পরিবর্তনগুলি দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা ও সরলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে, তবে স্বল্পমেয়াদে এর প্রভাব বুঝে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।