মহাকাশে অসংখ্য গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাদের মধ্যে কিছু পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এখনও প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি “শহর ধ্বংসকারী” গ্রহাণু রয়েছে যেগুলো বিজ্ঞানীদের নজরের বাইরে রয়ে গেছে। এই তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
2
8
বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই ধরনের গ্রহাণুকে সাধারণত পৃথিবীর কাছের গ্রহাণু বলা হয়। এগুলো এমন গ্রহাণু যাদের কক্ষপথ সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি চলে আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো পৃথিবীর জন্য সরাসরি বিপজ্জনক নয়, কিন্তু যদি কোনও গ্রহাণু পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের পথে চলে আসে, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
3
8
“শহর ধ্বংসকারী” গ্রহাণু বলতে সাধারণত ১৪০ মিটার বা তার বেশি ব্যাসের পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু বোঝায়। এই আকারের একটি গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে, তাহলে তা একটি বড় শহর বা বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস করতে পারে।
4
8
বর্তমানে উন্নত টেলিস্কোপ এবং পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার গ্রহাণু শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবুও মহাকাশ এতটাই বিশাল যে এখনও অনেক গ্রহাণু বিজ্ঞানীদের নজরে আসেনি। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের গ্রহাণু শনাক্ত করা কঠিন, কারণ তারা খুব বেশি আলো প্রতিফলিত করে না এবং অনেক সময় সূর্যের দিক থেকে আসায় টেলিস্কোপে ধরা পড়ে না।
5
8
এই সমস্যার সমাধানে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে নাসা। ভবিষ্যতে মহাকাশে বিশেষ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র পাঠিয়ে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গ্রহাণু শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হল পৃথিবীর কাছে থাকা বিপজ্জনক মহাজাগতিক বস্তুর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা।
6
8
বিজ্ঞানীরা আরও মনে করিয়ে দেন যে অতীতে পৃথিবীতে বড় গ্রহাণুর আঘাতের প্রমাণ রয়েছে। কোটি কোটি বছর আগে একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাতেই ডাইনোসরদের বিলুপ্তি ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়।
7
8
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এমন বিপর্যয় আগেভাগে শনাক্ত করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। উদাহরণ হিসেবে ২০২২ সালে মহাকাশে একটি পরীক্ষামূলক মিশনের মাধ্যমে গ্রহাণুর গতিপথ বদলানোর প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছিল, যা ভবিষ্যতে পৃথিবী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
8
8
সব মিলিয়ে বলা যায়, মহাকাশে এখনও অনেক অজানা গ্রহাণু রয়েছে যেগুলো পর্যবেক্ষণের বাইরে। যদিও তাৎক্ষণিক কোনো বড় বিপদের আশঙ্কা নেই, তবুও বিজ্ঞানীরা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি আগেই শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।