'মর্জিনা’ থেকে 'নীপা', চরিত্র বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু দর্শকের স্মৃতিতে মিঠু মুখার্জির সেই মুখ অমলিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ : ০৯
শেয়ার করুন
1
14
আলোয় এসেছিলেন, আলোতেই থেকে গেলেন। পর্দায় তাঁর পথচলা খুব দীর্ঘ ছিল না। কিন্তু যে ক'টি ছবিতে মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন, তার অনেকগুলিই বাঙালির সিনেমার স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ‘শেষ পর্ব’ থেকে ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’ হয়ে ‘আশ্রিতা’, একের পর এক চরিত্রে নিজের আসন তৈরি করেছিলেন মিঠু মুখার্জি।
2
14
সত্তরের দশকের শুরু। চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবিতে সমিত ভঞ্জের বিপরীতে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ মিঠুর। ছবিটি তাঁকে রাতারাতি তারকা না বানালেও, এই ছবিই খুলে দিয়েছিল তাঁর সিনেমার দরজা।
3
14
‘মর্জিনা’ হয়ে ঘরে ঘরে: ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’। আর এই ছবিই বদলে দিল মিঠুর কেরিয়ার। আলিবাবার কাহিনির মর্জিনা চরিত্রে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকের নজর কেড়ে নেয়। বিপরীতে দেবরাজ রায়—আর মিঠু হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার পরিচিত মুখ।
4
14
‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র সাফল্যের পরেই ‘নিশিকন্যা’। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতে মিঠুর বিপরীতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পরপর এমন গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে কাজ করে খুব অল্প সময়েই নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন মিঠু।
5
14
১৯৭৪ সালে মুক্তি পায় ‘কবি’। এই ছবিতে দেবরাজ রায়ের সঙ্গে অভিনয় করেন মিঠু। ‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র পর দর্শক তখন তাঁর কাছ থেকে নতুন চরিত্রের অপেক্ষায়—আর ‘কবি’ সেই যাত্রারই আরেকটি অধ্যায়।
6
14
১৯৭৪-এর ‘মৌচাক’ মিঠুর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ছবি। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতে রঞ্জিত মল্লিকের সীতেশের বিপরীতে নীপা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, রবি ঘোষদের মতো শিল্পীদের সঙ্গে ছবিতে মিঠুর উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়েছিল।
7
14
‘মৌচাক’-এর পর ফের রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন মিঠু। ১৯৭৫-এর ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ তাঁর অভিনয়জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছবি। পরপর কয়েকটি ছবিতে ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে দেখা যাচ্ছিল তাঁকে, আর ততদিনে মিঠু হয়ে উঠেছেন সত্তরের দশকের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন।
8
14
১৯৭৬-এ ‘চাঁদের কাছাকাছি’ এবং ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন মিঠু। বাংলা ছবির পাশাপাশি তাঁর কেরিয়ার তখন নতুন দিক খুঁজছে। ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এ উত্তমকুমারের মতো তারকার সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নেওয়াও তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
9
14
১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’-এর মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে পা রাখেন মিঠু। শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি; ছবিতে ছিলেন রাজ কপূরও। বাংলা সিনেমার পরিচিত মুখ তখন পা রাখছেন বম্বের বড় পর্দায়।
10
14
হিন্দি ছবিতে এরপর বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-তে দেখা যায় তাঁকে। ১৯৭৭-এ ‘সফেদ ঝুট’, ১৯৭৮-এ ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’—এই ছবিগুলির মাধ্যমে হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন মিঠু।
11
14
হিন্দি ছবির পাশাপাশি বাংলা ছবিতেও চলছিল তাঁর কাজ। ‘প্রতিমা’-র মতো ছবির পর ১৯৮০ সালে আসে ‘ভাগ্যচক্র’, ‘সন্ধি’ এবং ‘বন্ধন’। একের পর এক ছবিতে কাজ করলেও মিঠুর জনপ্রিয়তার মূল শিকড় ছিল বাংলা সিনেমাতেই।
12
14
আশির দশকেও মিঠুর অভিনয় থামেনি। ‘ফাদার’-এর মতো ছবিতে তাঁকে অন্য ধরনের চরিত্রে দেখা যায়। এরপর ‘দুজনে’ ও ‘প্রার্থনা’-র মতো ছবিও তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে জায়গা করে নেয়। তবে ধীরে ধীরে অভিনয়জগতের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেন তিনি।
13
14
মিঠু নিজে ‘রাঙা ভাঙা চাঁদ’ নামে একটি ছবি প্রযোজনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই ছবি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। পরে চন্দ্র বারোট সেই গল্পকে নতুনভাবে তৈরি করেন, নাম হয় ‘আশ্রিতা’। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিই হয়ে ওঠে মিঠুর বড় পর্দার শেষদিকের কাজ।
14
14
‘আশ্রিতা’-র পর ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। মুম্বইয়ে অনেকটা নিভৃতে কাটিয়েছেন পরবর্তী জীবন। কিন্তু অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পর্দা থেকে সরে যাওয়া মানেই দর্শকের স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়া নয়। ‘মর্জিনা’, ‘নীপা’ কিংবা ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র মিঠু আজও বাংলা সিনেমার এক বিশেষ সময়ের মুখ—অল্প সময়ের অভিনয়জীবন, অথচ দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি।