শোবার আগে এই জায়গায় ঘি মাখলে সতেজ হবে অঙ্গ, প্রাচীন ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির রহস্য জানুন
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬ : ০৭
শেয়ার করুন
1
6
আধুনিক জীবনের দৌড়ঝাঁপে হজমের সমস্যা, অনিদ্রা, মানসিক চাপ ও শারীরিক ব্যথা আজ প্রায় ঘরে ঘরে। এই প্রেক্ষাপটে বহু মানুষ আবার ফিরে তাকাচ্ছেন আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন ঘরোয়া চিকিৎসা-পদ্ধতির দিকে। তেমনই এক পরীক্ষিত অনুশীলন হল ঘি দিয়ে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে মালিশ করা। আয়ুর্বেদীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, নাভি ও পায়ের তলায় ঘি প্রয়োগ করলে তার প্রভাব গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
2
6
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাভি মানবদেহের একটি কেন্দ্রীয় শক্তিবিন্দু। এখানে হালকা গরম ঘি প্রয়োগ করলে তা অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে পুষ্ট করে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত নাভিতে ঘি মালিশ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, পেটফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা উপশম হয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব জনিত পেটব্যথাও হালকা হতে পারে। রাতে শোবার আগে চিৎ হয়ে শুয়ে নাভিতে দু’-তিন ফোঁটা কুসুম গরম ঘি দিয়ে কয়েক মিনিট ঘড়ির কাঁটার দিকে মালিশ করাই এই পদ্ধতির প্রচলিত রীতি।
3
6
আয়ুর্বেদে পায়ের তলাকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এখানে অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত রয়েছে, যেগুলি স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পায়ের তলায় ঘি মালিশ করলে স্নায়ু শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে। শীতকালে বা অনিদ্রায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং ফাটা গোড়ালির সমস্যাও ধীরে ধীরে সারে। মালিশের পর মোজা পরলে ঘি ভালোভাবে শোষিত হয়।
4
6
ত্বকের যত্নেও ঘি'র ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শুষ্ক প্রকৃতির ত্বকে ঘি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। মুখে অল্প পরিমাণে ঘি লাগালে ত্বক নরম থাকে, চোখের নিচের ফোলা ভাব ও কালচে ছাপ কিছুটা হালকা হতে পারে। অনেকেই রাতে শোবার আগে চোখের নিচে সামান্য ঘি ব্যবহার করেন।
5
6
চুলের যত্নে ঘি মালিশও একটি পুরনো ঘরোয়া পদ্ধতি। হালকা গরম ঘি মাথার ত্বকে মালিশ করলে খুশকি কমে, শুষ্কতা দূর হয় এবং চুলের গোড়া পুষ্ট হয় বলে আয়ুর্বেদীয় মত। একইভাবে হাঁটু বা অন্য কোনও জয়েন্টে ব্যথা ও শক্তভাব থাকলে সেখানে গরম ঘি মালিশে কিছুটা আরাম মিলতে পারে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সর্বাধিক উপকার পেতে হলে দেশি গরুর A2 ঘি ব্যবহার করা ভালো এবং মালিশের আগে ঘি সামান্য গরম করা উচিত। রাতের সময় এই কাজ করলে শরীরের শোষণক্ষমতা বেশি থাকে।
6
6
তবে মনে রাখতে হবে, ঘি-মালিশ একটি সহায়ক প্রাকৃতিক পদ্ধতি এটি কোনও রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা, তীব্র ব্যথা বা ত্বকের জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবুও, নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহারে এই প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় অভ্যাস শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।