শুক্রবার থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার এবং ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড (ছোটু) সিলিন্ডারের দামে বড় ধরনের বদল দেখা দিয়েছে। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৩ টাকা এবং ছোট সিলিন্ডারের দাম ২৬১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) এই মূল্যবৃদ্ধির খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, তাদের মোট গ্রাহক নেটওয়ার্কের মাত্র ১ শতাংশ এই ধরনের বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার করেন।
2
6
এই দাম বাড়ার ফলে রাজধানী দিল্লিতে এখন ১৯ কেজির একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার কিনতে খরচ হবে ৩,০৭১.৫০ টাকা। অন্যদিকে বাণিজ্যনগরী মুম্বাইতে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৩,০২৪ টাকায়। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ৫ কেজির মিনি সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে রাখা হয়েছে প্রায় ৩৩৯ টাকা, মুম্বাইতেই প্রায় একই রকম দাম বজায় আছে। উল্লেখ্য যে, গত মাসেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো এই দুই ধরনের সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছিল, অর্থাৎ পরপর দুই মাস চড়া হারের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
3
6
বাণিজ্যিক গ্যাসের এই আকাশছোঁয়া দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে রেস্তোরাঁ, হোটেল, বেকারি এবং অন্যান্য ছোট-বড় খাদ্যশিল্পের ওপর। সাধারণত এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচের বোঝা কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাইরে খাওয়ার খরচ কিংবা হোটেলের খাবারের বিল আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
4
6
তবে এই সংকটের মধ্যেও সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে তেল সংস্থাগুলো। পেট্রোল, ডিজেল এবং গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের (১৪.২ কেজি সিলিন্ডার) দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। আইওসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক যারা এই জ্বালানিগুলো ব্যবহার করেন, তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। এমনকি পিডিএস বা রেশনের মাধ্যমে বিলি করা কেরোসিনের দামও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
5
6
পাশাপাশি, দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ) বা বিমান জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি। যদিও প্রতি মাসের শুরুতে এই দাম পর্যালোচনা করা হয়, তবে এবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও তার প্রভাব দেশীয় উড়ানে পড়তে দেয়নি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো। যদিও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
6
6
সার্বিকভাবে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে যে, প্রায় ৮০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং ৪ শতাংশ পণ্যের দাম উল্টে কমেছে। বাকি ১৬ শতাংশ জ্বালানি, যার মধ্যে মূলত শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত জ্বালানিগুলো রয়েছে, সেগুলোর দামই কেবল বাড়ানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতেই এই ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিল্প ক্ষেত্রে খরচ বাড়লেও সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি বড় কোনও টান পড়ছে না।