রান্নাঘরের টুকটুক শব্দ আর দূর থেকে ভেসে আসা কেরোসিনের হালকা গন্ধ। বৃষ্টির দিনে চা হোক কিংবা শীতের সকালে চা, এক প্রজন্মের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে কেরোসিনের স্টোভ। যা গ্যাস ইন্ডাকশনের যুগে এখন যেন হারিয়ে যাওয়া সঙ্গী।
2
10
আজকের আধুনিক রান্নাঘরে গ্যাস ওভেন, ইন্ডাকশন কুকটপ কিংবা মাইক্রোওয়েভের দাপট রয়েছে। রান্না এখন অনেক সহজ, দ্রুত এবং ঝামেলাহীন। কিন্তু একসময় বাঙালি পরিবারের হেঁশেলে সবচেয়ে পরিচিত সঙ্গী ছিল কেরোসিনের স্টোভ। যার ব্যবহার সময়ের সঙ্গে প্রায় হারিয়ে গেলেও, সেটি অনেকেরই ছোটবেলার স্মৃতি জুড়ে রয়েছে।
3
10
সকালের রান্না শুরু হওয়ার আগে স্টোভে পাম্প করা, কেরোসিন ভরা, তারপর আগুন ধরানোর সেই ছোট্ট প্রস্তুতি ছিল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
4
10
কখনও স্টোভ ঠিকমতো জ্বলত না, কখনও আবার শিখা খুব বেশি হয়ে যেত। তবু সংসারের চাকা থামত না। মা, ঠাকুমা কিংবা কাকিমারা সেই স্টোভেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্না করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতেন।
5
10
কেরোসিনের স্টোভের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক আলাদা গন্ধ। আজকের প্রজন্মের কাছে সেটি হয়তো শুধু জ্বালানির গন্ধ, কিন্তু পুরনো দিনের মানুষদের কাছে তা যেন স্মৃতির দরজা খুলে দেয়। সেই গন্ধে মিশে আছে শীতের সকালে গরম চায়ের কাপ, বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির হাঁড়ি, কিংবা পরীক্ষার আগে মায়ের হাতে তৈরি দুধ-সুজির স্বাদ।
6
10
গ্রামের বাড়ি হোক বা শহরের ছোট্ট ফ্ল্যাট, কেরোসিনের স্টোভ ছিল প্রায় সব রান্নাঘরেরই অপরিহার্য অংশ।
7
10
অনেক পরিবারে গ্যাসের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে এখনও একটি পুরনো স্টোভ যত্ন করে তুলে রাখা রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বা গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সেই পুরনো সঙ্গী আবার কাজে লাগে।
8
10
কেরোসিনের স্টোভ শুধু একটি রান্নার যন্ত্র ছিল না, ছিল এক প্রজন্মের সংগ্রামের সাক্ষী। সীমিত আয়, অল্প সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মানুষ কীভাবে সংসার চালিয়েছেন, তার নীরব সাক্ষী এই স্টোভ। অনেকে আজও মনে করেন, সেই স্টোভে রান্না করা চায়ের স্বাদ কিংবা আলুভাজার গন্ধ যেন অন্যরকম ছিল।
9
10
সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে। কিন্তু কিছু জিনিস মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল থেকে যায়। কেরোসিনের স্টোভও তেমনই এক স্মৃতি, যা আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সহজ-সরল দিনগুলোর কাছে।
10
10
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে গেলেও, পুরনো রান্নাঘরের সেই টুকটুক শব্দ আর কেরোসিনের হালকা গন্ধ এখনও বহু মানুষের মনে নস্টালজিয়ার উষ্ণতা জাগিয়ে তোলে।