জন্মাষ্টমীর উপবাসে কী খাবেন, কী খাবেন না? ভুলেও করবেন না এই কাজ, জেনে নিন পারণের নিয়ম
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ : ১৪
শেয়ার করুন
1
11
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। প্রতি বছর ভক্তরা এই দিন উপবাস রেখে পুজো করেন এবং মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মক্ষণে বিশেষ আরাধনা করেন।
2
11
জন্মাষ্টমীর উপবাস অন্যান্য সাধারণ ব্রতের থেকে কিছুটা আলাদা। কী খাওয়া যাবে, কোন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং কখন উপবাস ভাঙতে হবে—এসব নিয়ম মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।
3
11
এই বছর ২০২৬ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ২৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে। তাই মূল জন্মাষ্টমী ৪ সেপ্টেম্বরই।
4
11
জন্মাষ্টমীর ব্রত পালনের ক্ষেত্রে অনেকে সূর্যোদয় থেকে উপবাস শুরু করেন এবং মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পর পুজো করে উপবাস ভাঙেন। আবার কেউ কেউ পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ে পারণ করেন। তাই নিজের পালন করা ব্রতের নিয়ম এবং স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী সময় মেনে চলা উচিত।
5
11
যাঁরা সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস করেন না, তাঁরা ফলাহার করতে পারেন। সাধারণত ব্রতের সময়ে ফল, দুধ, দই, বাদাম, মাখানা ইত্যাদি খাওয়া হয়ে থাকে। আলু বা অন্যান্য ব্রত-উপযোগী খাবারও অনেকে গ্রহণ করেন।
6
11
লবণ ব্যবহার করতে হলে সাধারণ নুনের পরিবর্তে সৈন্ধব নুন ব্যবহার করার রীতি রয়েছে। তবে কী খাবেন, তা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক ধর্মীয় রীতির উপর নির্ভর করতে পারে।
7
11
জন্মাষ্টমীর ব্রতে সাধারণত চাল, গম, ডাল, সাধারণ নুনসহ নিয়মিত শস্যজাত খাবার এড়িয়ে চলা হয়। অনেক পরিবারে পেঁয়াজ-রসুনও এই দিনে ব্যবহার করা হয় না। উপবাসের দিনে সাধারণ খাবার না খেয়ে ব্রতের নিয়ম মেনে ফলাহার বা সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করাই প্রচলিত।
8
11
ব্রত শেষ করার সময়কে বলা হয় পারণ। জন্মাষ্টমীতে অনেকেই মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মের পরই খাবার খান না; বরং পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ে পারণ করেন। তাই শুধুমাত্র রাত ১২টা বাজলেই উপবাস ভেঙে ফেলার আগে স্থানীয় পঞ্জিকায় পারণের সময় দেখে নেওয়া জরুরি।
9
11
পারণের সময় অঞ্চল এবং পঞ্জিকা অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে নিজের এলাকার জন্য নির্ধারিত সময় মেনেই ব্রত শেষ করা উচিত।
10
11
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী উপবাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শরীরের ক্ষমতার কথাও মাথায় রাখা দরকার। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা সবার জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে যাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাঁরা উপবাস করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
11
11
জন্মাষ্টমীর মূল উদ্দেশ্য ভক্তি ও আরাধনা। তাই শুধু কঠোরভাবে উপবাস করাই নয়, মন দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পুজো, নামসংকীর্তন এবং প্রার্থনার মাধ্যমেও এই পবিত্র দিন পালন করা যায়।