শুধু বড় সূচক নয়, মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারেও দেখা গিয়েছে ব্যাপক বিক্রি। রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি ও সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ—এই একাধিক কারণ একসঙ্গে বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে।
3
11
বুধবারের প্রাথমিক লেনদেনে সেনসেক্স ৭৫০ পয়েন্ট বা ০.৯৮ শতাংশ পড়ে ৭৬,১৯৩.৮২-তে নেমে আসে। একই সময়ে নিফটি ২৩৫ পয়েন্ট বা ০.৯৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৩,৮২০.৭৫-তে। বাজারের বিস্তৃত অংশেও একই ছবি।
4
11
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়াই দিনের বাজার পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আমেরিকার নতুন হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
5
11
ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এশিয়ার বাজারেও তীব্র পতন দেখা গিয়েছে।
6
11
মধ্য এশিয়ার সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দাম একসময় ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
7
11
ভারতের জন্য এটি বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। কারণ দেশের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। দীর্ঘদিন তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি খরচ বাড়বে, মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে এবং সংস্থাগুলির মুনাফার উপরও চাপ পড়তে পারে।
8
11
বাজারে চাপ বাড়ানোর আরেকটি কারণ মার্কিন ট্রেজারি ইলেল্ড বৃদ্ধি। ১০ বছরের মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড প্রায় ৪.৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
9
11
এর পাশাপাশি, আমেরিকায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ায় ফেডেরাল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর বদলে ভবিষ্যতে বাড়াতে পারে—এমন জল্পনাও তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের হার শেয়ার বাজারের জন্য সাধারণত নেতিবাচক।
10
11
সব মিলিয়ে, আজকের পতন শুধু ভারতীয় বাজারের নিজস্ব সমস্যা নয়। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা তেলের দাম, মার্কিন বন্ড ইয়িল্ড এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে।
11
11
আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার উপরই ভারতীয় শেয়ার বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও।