২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বান এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে উদ্ধারাভিযান এবং ত্রাণকার্য। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন প্রিয়া অধিকারী। তিনিই দেশের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন। মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ধরে বিধ্বস্ত এলাকায় প্রায় ১০০টি উদ্ধরাভিযান চালিয়েছেন। ৪১ বছরে বয়সেই রেখেছেন অনন্য নজির।
2
8
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, নেপালের রাসুওয়া জেলার তিমুরে এলাকার উচ্চ পার্বত্য এবং উপত্যকা অঞ্চলে তিনিই গত কয়েকদিন ধরে টানা উদ্ধারাভিযান চালিয়েছেন। হিমালয়ের প্রায় ৬,২০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চটায় আহত পর্বতারোহীদের উদ্ধার করেছেন তিনি। উপত্যকা অঞ্চলে দুর্গম ও বন্যাবিধ্বস্ত অঞ্চলে একটানা হেলিকপ্টারে উদ্ধারকাজ চলছে।
3
8
সিএনএন-এর সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্পের থেকেও এই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অনেক কঠিন ছিল। কারণ, এই বিপর্যয়ের ধ্বংসলীলা একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ উপত্যকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
4
8
ভূমিধসের ফলে এলাকাগুলি পুরু কাদায় ঢেকে গিয়েছে। কিছু জায়গায় মাটি নরম থাকায় হেলিকপ্টারে ইঞ্জিনের পাওয়ার বন্ধ করাও সম্ভব হয় না। ইঞ্জিন চালু রেখেই জীবিতদের তুলে নিতে হয়।
5
8
সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানান, তিমুরে এলাকায় একসঙ্গে প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার এখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। অনেক সময় একইসঙ্গে ৫ থেকে ৬টি বিমান সঙ্কীর্ণ উপত্যকা অঞ্চলে অবতরণ করে এই কাজ করছে। একইসময়ে অবতরণকালে সংঘর্ষ এড়াতে পাইলটরা রেডিওর মাধ্যমে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে নিজেদের গতিবিধির মধ্যে সমন্বয় রাখছেন বলেও তিনি জানান।
6
8
তবে প্রিয়ার জীবনের শুরুটা এমন ছিল না। পড়াশোনা পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে। এরপর কেবিন ক্রুর কাজ শুরু করেন তিনি। সেখান থেকেই হেলিকপ্টার ওড়ার নেশা তৈরি হয়। এরপর তিনি ফিলিপিন্সে গিয়ে হেলিকপ্টার চালনার প্রশিক্ষণ নেন। উড়ান চালনার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ২০১৭ সালে তিনি পূর্ণাঙ্গ পাইলটের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে হাই-অল্টিটিউড রেসকিউ মিশনে অর্জন করেন বিশেষ দক্ষতা।
7
8
সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া আরও জানান, উদ্ধারকাজে গিয়ে হেলিকপ্টার থেকে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। দেখেছেন সারি সারি ছড়িয়ে থাকা মরদেহ। একইসঙ্গে বহু মানুষ বাঁচার আশায় উদ্ধারকাজের জন্য অপেক্ষা করছেন, এমন দৃশ্যও তাঁর নজরে আসে।
8
8
তিনি জানান, প্রথম দু'দিনেই তিনি তিমুর থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে এনেছিলেন। নেপাল আর্মির অগাস্টা বিমান-সহ বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার এই মিশনে অংশ নিয়েছে। অবর্ণনীয় ক্লান্তি সত্ত্বেও প্রিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা অবিরাম কাজ করে চলেছেন। বেঁচে থাকা মানুষদের মুখের হাসি-ই তাঁকে এই চরম সংকটের মুহূর্তে শক্তি জোগাচ্ছে বলে জানান তিনি।