স্বপ্নপূরণ! মহাদেবের কৃপায় আটকে থাকা কাজে আসবে গতি, জেনে নিন শ্রাবণ মাসের ১৬ সোমবারের মাহাত্ম্য, পুজোর নিয়ম
- 1
- 20
নারী পুরুষ নির্বিশেষে মহাদেবের প্রতি আস্থা থাকা সকল মানুষ এই ব্রত পালন করতে পারেন৷ যাঁরা নিজের কোনও বিশেষ ইচ্ছেপূরণ করতে চাইছেন,বহুদিন ধরে আটকে আছে এমন কোনও কিছু ম্যাজিকের মতো হয়ে যাক চাইছেন তারা করতে পারেন৷
- 2
- 20
যে কোনও শুক্লপক্ষের সোমবার থেকেই এই ব্রত শুরু করা যায়৷ তবে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষ বিশেষ শুভ। যদি শ্রাবণ মাসের সোমবার থেকে এই ব্রত শুরু করা যায়, তাহলে এই ব্রতর অভূতপূর্ব ফল মেলে বলে জানাচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
- 3
- 20
১৬ সোমবার অর্থাৎ ১৬ টা সোমবার ব্রত করার পর ১৭ তম সোমবারে গিয়ে ব্রত উদযাপন করা হবে৷ কী কী লাগবে দেখে নিন৷
- 4
- 20
একটা জলচৌকির উপর হলুদ শালু কাপড় পাততে হবে৷ শিবলিঙ্গ সেটা পাথরের হোক বা পারদের, সেই শিবলিঙ্গেই আপনারা এই উপাচার করতে পারবেন। মন্দিরে যদি আপনারা করতে চান, তাহলে উপাচার নিয়ে মন্দিরে যেতে হবে৷
- 5
- 20
একটা জলচৌকির উপর হলুদ শালু কাপড় পাততে হবে৷ শিবলিঙ্গ সেটা পাথরের হোক বা পারদের, সেই শিবলিঙ্গেই আপনারা এই উপাচার করতে পারবেন। মন্দিরে যদি আপনারা করতে চান, তাহলে উপাচার নিয়ে মন্দিরে যেতে হবে৷
- 6
- 20
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নানাদি সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরবেন, তারপর পুজোর আয়োজন করবেন৷ এক্ষেত্রে শুধু জল বেলপাতা দিয়ে পুজো হবে না৷ ১৬ সোমবারের ব্রত করতে হলে সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।
- 7
- 20
১৬ সোমবারের ব্রত শুধুমাত্র মহাদেব নয়, দেবী পার্বতীকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে পুজো করতে হয়। তবেই ব্রতর সফলতা আসে। ব্রতের শুরুতেই গৌরী এবং গণেশকে আবাহন করুন৷
- 8
- 20
প্রথমে আপনার হাতে সামান্য কিছু অক্ষত চাল নিয়ে ওই চৌকির ওপর দু'জায়গায় একটু একটু করে চাল দিয়ে দেবেন। এরপর একটা বড় কাঁচা হলুদের টুকরো নিতে হবে৷ সেই হলুদের টুকরোটাকে লাল মৌলী সুতো জড়িয়ে একটা চালের ঢিপির ওপর বসাবেন। ইনি হলেন মাতা গৌরী।
- 9
- 20
একটি গোটা সুপারি নেবেন, সেই সুপারিটাকেও কিন্তু ওই মৌলী ধাগা দিয়ে পুরো মুড়ে দেবেন সুতো দিয়ে ঘুরিয়ে। এইটাকে আরেকটা যে চালের ঢিপির উপর বসিয়ে দেবেন। ইনিই গণেশের প্রতীক৷
- 10
- 20
একটু চাল নিয়ে চৌকির উপর রাখবেন৷ আঙুল দিয়েই অষ্টকমল তৈরি করবেন। আটটা পাপড়ি যুক্ত পদ্মফুল আঁকতে হবে৷ মাটি বা পিতলের ঘট নেবেন৷ ঘটের গলার কাছে লাল মৌলী সুতো বাঁধবেন৷ ঘটের বাইরে অবশ্যই স্বস্তিক অঙ্কন করবেন বা পাঁচটা ফোঁটা সিঁদুর গুলে দিয়ে নেবেন। ঘটে গঙ্গাজল ভরবেন৷ তার মধ্যে একটা এক টাকার কয়েন, সামান্য একটা হলুদের গাঁট, সুপারি দিতে হবে৷
- 11
- 20
ঘটে আম্রপল্লব দিন৷ তার ওপর একটা ছোট্ট মাটির পাত্র বা পিতলের পাত্রে আপনি সপ্তধান্য বা অখণ্ড যে চাল হয়, সেই চাল ভরাট করে ওই পাত্রটাকে আম্রপল্লবের ওপর বসাবেন। এবং তার ওপর একটা ছোট্ট ঘিয়ের প্রদীপ আপনি জ্বালবেন।
- 12
- 20
এই ঘট অষ্টকমলের উপর বসাতে হবে৷ শিবলিঙ্গ যে পাত্রে আছে, সেই পাত্রে প্রথমে একটা বেলপাতা দেবেন, তার উপর শিবকে বসাবেন৷ নিজের ডান হাতের তালুতে সামান্য জল, গোটা চাল, বেলপাতা, পুষ্প এবং আপনার সাধ্যমতো দক্ষিণা, সেটা এক টাকা হতে পারে, ১১ টাকা হতে পারে, যা ইচ্ছে নেবেন৷
- 13
- 20
এবার বাম হাত দিয়ে এটাকে চেপে ধরে নিজের নাম গোত্রটা বলবেন। নিজের ইচ্ছেটা জানাবেন মহাদেবের কাছে এবং বলবেন মনে মনে, "মহাদেব আমি আমার এই ইচ্ছের পূর্তি কামনায় আপনার সমীপে বসে সংকল্প গ্রহণ করছি ১৬ সোমবারের ব্রত নিষ্ঠা সহকারে পালন করার। এবং আপনার কাছে আমার প্রার্থনা, আমি আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়ে এই ব্রতকে সফল করবেন।" এই বলে সেই আসনে হাতের জিনিসগুলোকে আসনের ওপর নিবেদন করবেন৷
- 14
- 20
প্রার্থনা জানাবেন, "হে গৌরী গণেশ, হে দীপ নারায়ণ, হে কলসের সকল দেবদেবী তথা দেবাদিদেব মহাদেব, আমার প্রার্থনা আপনাদের সকলের কাছে, আমার পূজার সিদ্ধির জন্য আপনারা সকলে এই আসনে বিরাজ করুন এবং আমার পুজোকে সফল করুন।"
- 15
- 20
ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে, প্রণাম জানিয়ে পুজো শুরু করবেন। প্রথমেই জল নিয়ে গৌরী গণেশকে এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে জল ছোঁয়ালেন। কলসের গায়ে এক ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিলেন। দীপ নারায়ণের উদ্দেশ্যে এক ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিলেন। মহাদেবকেও অভিষেক করালেন, জল দিলেন। এরপর আপনি যদি পঞ্চামৃতের অভিষেক করছেন, প্রত্যেককে ওইভাবে সামান্য ছিটিয়ে ছিটিয়ে পঞ্চামৃতটা দিলেন। আবার জল দিয়ে স্নান করিয়ে দিলেন।
- 16
- 20
এরপরে মা গৌরীকে লাল মৌলী সুতো নিবেদন করুন। বস্ত্র আর শৃঙ্গারের কোনো জিনিস মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদন করবেন। তেমনি গণেশ আর মহাদেবের উদ্দেশ্যে আপনি পৈতে নিবেদন করবেন। মহাদেবের জন্য চন্দন, ভস্ম এগুলো দেবেন। গণেশের উদ্দেশ্যে আপনারা কেশর মিশ্রিত তিলক নিবেদন করবেন। মিষ্টান্ন নিবেদন করবেন সকলের উদ্দেশ্যে। ফুল নিবেদন করবেন এবং প্রার্থনা জানাবেন।
- 17
- 20
এরপরে আপনি সুন্দর করে কর্পূরের আরতি করবেন এবং পান, সুপারি, এলাচ, লবঙ্গ প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে আলাদা আলাদা সাজিয়ে সকলের সামনে সামনে নিবেদন করবেন।
- 18
- 20
পুজোতে ত্রুটি হতেই পারে। নতমস্তকে ক্ষমা প্রার্থনা চাইব, যে "আমার এই পূজা পদ্ধতিতে যদি কোনো ত্রুটি, কোনো ভুল হয়ে থাকে ক্ষমা চাইছি। আসন ছেড়ে ওঠার আগে আপনি যে আসনে বসে পুজোটা করছিলেন সেই আসনের একটা কোণকে তুলে সেই কোণের তলায় সামান্য একটু জল ছিটিয়ে দেবেন।
- 19
- 20
এবার আপনার ডান হাত দিয়ে সেই জলটাকে মাটিতে একটু ঘষে দেবেন জলটাকে। সেই জলটা কপালে, মাথায় ভালো করে বুলিয়ে নেবেন, প্রার্থনা জানিয়ে উঠবেন। উঠে বাড়ির গুরুজন যারা রয়েছেন তাদেরকে প্রণাম করবেন। যারা আপনার থেকে ছোট তাদেরকে আশীর্বাদ দেবেন, সুচিন্তা করবেন এবং যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় সাধ্যমতো গরীবদের অন্ন বস্ত্র দান করুন।
- 20
- 20















