ইরান দাবি করেছে তাদের আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান পশ্চিম এশিয়ার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবফ এক্স-এ এই দাবি করেছেন।
2
11
ইরানের দাবি, এফ-৩৫-কে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপরাজেয়তা ও ঔদ্ধত্যের প্রতীক হিসেব দেখা হয়। এই ধরনের একটি প্রতীকে আঘাত হানার ঘটনা ‘এই প্রথম’ এবং এটিকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
3
11
মার্কিন প্রশাসনের কেউ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল।” তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।” এর বেশি কিছুই বলতে রাজ হননি তিনি।
4
11
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতে আমেরিকা এফ-১৫ এবং একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার-সহ একাধিক বিমান হারিয়েছে। তবে এর আগে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে চালক-সহ কোনও মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
5
11
লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘এফ-৩৫ লাইটনিং ২’ আমেরিকার ও মিত্র দেশগুলির জন্য একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ বিমান। এটিকে বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছে। এটিকে আকাশে প্রাধান্য বজায় রাখা, মাটিতে আক্রমণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ-সহ একাধিক ভূমিকা পালনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান।
6
11
এফ-৩৫ স্বল্প দৃশ্যমানতার মাধ্যমে প্রধান সুবিধা অর্জন করে। যা শত্রুপক্ষের সিস্টেম সহজে শনাক্ত করতে পারে না। এটিকে এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে অস্ত্র ও জ্বালানি বহনের ব্যবস্থা বাইরের দিকে কোনও অংশ প্রসারিত না হতে হয়।
7
11
এটিকে রাডারে সহজে চিহ্নিত করা যায় না। এটি শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। এর সতর্কভাবে বিন্যস্ত প্রান্ত এবং জ্যামিতি নানা সংকেতকে বিক্ষিপ্ত বা আটকে রেখে রাডার এড়িয়ে যেতা সাহায্য করে। যার ফলে একে অনুসরণ করা অনেক বেশি কঠিন।
8
11
রাডার ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি, বিমানটিকে এর ইনফ্রারেড সঙ্কেত দমন করার জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা তাপ-অনুসন্ধানকারী সিস্টেম দ্বারা শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এর বিশেষ আস্তরণ সব রকম সঙ্কেত শোষণ করে নেয়।
9
11
বিমানটির একটি প্রধান শক্তি হল এর একাধিক অনবোর্ড সেন্সর থেকে প্রাপ্ত ডেটাকে একটি তথ্যে পরিণত করা ক্ষমতা। এটি পাইলটদেরকে প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের তুলনায় আরও কার্যকরভাবে হুমকি শনাক্ত করতে, অনুসরণ করতে এবং তার জবাব দিতে সাহায্য করে, যা প্রায়শই প্রতিপক্ষ এর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই করা সম্ভব হয়। তাই, এফ-৩৫-এর আকৃতি, অভ্যন্তরীণ সেন্সর, অস্ত্র এবং জ্বালানি-সহ সবকিছুই এর ‘স্টেলথ’ বা ‘স্বল্প দৃশ্যমানতা’ বজায় রাখতে অবদান রাখে।
10
11
শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি, এফ-৩৫-এর উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এটিকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হুমকি শনাক্ত করতে, বিভ্রান্ত করতে এবং জ্যাম করতে সক্ষম করে, যা জটিল অপারেশনাল পরিবেশে স্টেলথ বজায় রেখে টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়ায়। চালানোর সুবিধা এবং সুপারসনিক গতির এই সিস্টেমগুলিকে প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সাহায্য করে।
11
11
যদি ইরানের দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এই ঘটনাটি হবে লকহিড মার্টিন এবং আমেরিকার কাছে চিন্তার বিষয়। এফ-৩৫ বিমানটিকে অদৃশ্য হওয়ার জন্য নয়, বরং সকলের নজর এড়ানো, শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে জটিল করা এবং তথ্যগত ক্ষেত্রে নির্ণায়ক সুবিধা বজায় রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আধুনিক আকাশযুদ্ধ এবং বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর এর প্রভাবের জন্য মার্কিন তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।