ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আইপিও বাজারগুলোর একটি। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। অনেক ইস্যু ৫০ গুণ, ১০০ গুণ, এমনকি ২০০ গুণ পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব হচ্ছে।
2
11
লিস্টিং-ডে লাভ সংবাদ শিরোনাম দখল করছে। কিন্তু পরের আইপিওতে আবেদন করার আগে বিনিয়োগকারীদের একটি মৌলিক প্রশ্ন করা জরুরি—টাকাটা আসলে কোথায় যাচ্ছে?
3
11
একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্লেষিত ১,৭০০-র বেশি আইপিওর মোট অর্থের ৬৩% এসেছে অফার ফর সেল থেকে। অর্থাৎ এই অংশের টাকা কোম্পানির হাতে নয়, বরং প্রোমোটার বা প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের কাছে গেছে। মাত্র ৩৭% ছিল ফ্রেশ ক্যাপিটাল, যা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা যায়।
4
11
এক দশক আগে চিত্রটা ভিন্ন ছিল। তখন আইপিও মানেই ছিল নতুন কারখানা গড়া, ঋণ কমানো বা নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য পুঁজি তোলা। ২০১৫ সালের পরেও ফ্রেশ ইস্যুর ভাগ তুলনামূলক বেশি ছিল। কিন্তু এখন ভারসাম্য বদলেছে।
5
11
সব আইপিওর উদ্দেশ্য এক নয়। কিছু ইস্যু মূলত প্রবৃদ্ধির তহবিল জোগাড়ের জন্য, আবার কিছু প্রোমোটারদের এক্সিটের সুযোগ করে দেয়। সমস্যা ভালো না খারাপ—তা নয়। আসল বিষয় হল, অনেক খুচরা বিনিয়োগকারী বুঝতেই পারেন না যে তারা প্রায়ই এমন কারও কাছ থেকে শেয়ার কিনছেন, যিনি নিজের অংশীদারিত্ব কমাচ্ছেন; কোম্পানির ভেতরে নতুন টাকা ঢুকছে না।
6
11
তালিকাভুক্তির পরের পারফরম্যান্সও চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, প্রথম দিনের উত্তেজনা বেশিরভাগ সময় টেকে না। ফ্রেশ-ইস্যু-প্রধান আইপিওগুলোর মিডিয়ান লিস্টিং গেইন প্রায় ৬.৭%। কিন্তু এক মাসের মধ্যে মিডিয়ান রিটার্ন নেমে যায় প্রায় মাইনাস ৮%-এ। এক বছরে তা আরও কমে প্রায় মাইনাস ১৩%।
7
11
অন্যদিকে প্রধান আইপিওতে লিস্টিং গেইন তুলনামূলক বেশি, প্রায় ১১%। কিন্তু এক মাস পরে মিডিয়ান রিটার্ন দাঁড়ায় প্রায় মাইনাস ৪%, আর এক বছরে প্রায় মাইনাস ১০%। অর্থাৎ, শুরুর ঝলক দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক শক্তিশালী পারফরম্যান্সের নিশ্চয়তা দেয় না।
8
11
সাবস্ক্রিপশন সংখ্যাকেও অনেকেই মানের প্রমাণ মনে করেন। কিন্তু ২০০ গুণের বেশি সাবস্ক্রাইব হওয়া আইপিওতে মিডিয়ান লিস্টিং গেইন প্রায় ৯০% হলেও, এক মাসের মধ্যে রিটার্ন নেমে আসে প্রায় মাইনাস ৭%-এ।
9
11
এক বছরের ফলাফলও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী নয়। তীব্র চাহিদা বাজারে তারল্য ও উত্তেজনার প্রতিফলন হতে পারে, কিন্তু তা ব্যবসার গুণগত মান বা সঠিক মূল্যায়নের নিশ্চয়তা নয়। অতিরিক্ত প্রত্যাশা পূরণ না হলে দাম দ্রুত সমন্বয় হয়।
10
11
সমীক্ষাটি আরও দেখায়, আইপিও কার্যকলাপ বাড়ে শক্তিশালী ইক্যুইটি রিটার্নের পর। নিফটির গত ১২ মাসের রিটার্নের সঙ্গে আইপিও ইস্যুর সংখ্যার স্পষ্ট সম্পর্ক দেখা যায়। বাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী ও মূল্যায়ন উচ্চ, তখন প্রোমোটাররা শেয়ার বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হন। অর্থাৎ আইপিওর ঢেউ বৃহত্তর বাজার চক্রেরই অংশ।
11
11
খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তাটি পরিষ্কার। আইপিও বুম প্রায়শই চরম আশাবাদের সময়েই আসে। তাই শুধু লিস্টিং-ডে লাভ বা উচ্চ সাবস্ক্রিপশনের মোহে না ভেসে, ইস্যুর কাঠামো, অর্থের ব্যবহার ও মূল্যায়ন ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।