ট্রেনে সফরের সময় অনেক যাত্রীই বুকিং করার পরেও আপার বার্থ পান। যুবক-যুবতীদের ক্ষেত্রে এতে সমস্যা না হলেও, বয়স্ক মানুষ বা মহিলাদের জন্য মাঝেমধ্যে তা চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
2
10
এই ভোগান্তি দূর করতে ভারতীয় রেলের নিজস্ব কিছু নিয়ম রয়েছে। একটু পরিকল্পনা করে চললেই অনায়াসে পাওয়া যেতে পারে লোয়ার বার্থ।
3
10
রেলের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিদিন ১৩ হাজারেরও বেশি ট্রেন চলে এবং বছরে প্রায় সাত কোটি যাত্রী যাতায়াত করেন। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীর মধ্যে প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের সুবিধার্থে স্লিপার, থার্ড এসি, সেকেন্ড এসি এবং ফার্স্ট ক্লাসে নির্দিষ্ট কিছু লোয়ার বার্থ সংরক্ষিত থাকে।
4
10
৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মহিলা, অন্তঃসত্ত্বা এবং প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
5
10
সাধারণত স্লিপার ক্লাসের প্রতিটি কোচে ৬ থেকে ৭টি, থার্ড এসি-তে ৪ থেকে ৫টি এবং সেকেন্ড এসি-তে ৩ থেকে ৪টি লোয়ার বার্থ এই বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য তুলে রাখা হয়। রাজধানী বা শতাব্দীর মতো প্রিমিয়াম ট্রেন সহ সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেসে এই নিয়ম বহাল থাকে।
6
10
অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, নির্দিষ্ট বয়সের কোটা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা মাঝেমধ্যে উপরের বার্থ পান?
7
10
আসলে রেলের টিকিট বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়াটি চলে স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার ব্যবস্থার মাধ্যমে। যদি নির্দিষ্ট কোটার সমস্ত লোয়ার বার্থ আগেই বুক হয়ে যায়, তবে কম্পিউটার সিস্টেমে যে আসন খালি থাকবে, সেটিই বরাদ্দ হয়।
8
10
কেবল বয়স্ক বা মহিলারাই নন, বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ যাত্রীদের জন্যও প্রতিটি ট্রেনে আসন সংরক্ষিত থাকে। স্লিপার ক্লাসের পাশাপাশি থার্ড এসি ও ইকোনমি এসি-তেও তাঁদের জন্য দুটি করে বার্থ নির্দিষ্ট করা থাকে। এর পাশাপাশি স্টেশনেও তাঁদের জন্য বাড়তি সহায়তার ব্যবস্থা রাখে রেল।
9
10
পছন্দের আসন পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতি মেনে চলা। সাধারণত ট্রেন ছাড়ার ৬০ দিন আগে থেকে রিজার্ভেশন শুরু হয়।
10
10
তাই সফরের পরিকল্পনা আগেভাগে সেরে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব টিকিট বুক করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে প্রবীণ ও মহিলাদের লোয়ার বার্থ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।