কেন্দ্রীয় সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নথিভুক্তকরণ আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি কিছু চ্যালেঞ্জ হবে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনও শিশুর জন্ম বা কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সময়মতো নথিভুক্ত না করা হলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
2
6
কেন্দ্রীয় সরকার 'জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন' সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শিশুর জন্মের দু'বছরের বেশি সময় পর জন্ম সংশাপত্রের জন্য আবেদন করলে অথবা মৃত্যুর ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর নিবন্ধনের চেষ্টা করা হলে, আবেদনকারীকে একজন 'ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট'-এর কাছ থেকে আদেশ বা অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে।
3
6
নতুন প্রস্তাবনায় কী কী বিষয় রয়েছে? বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে জন্ম বা মৃত্যু নথিভুক্তকরণ না করে থাকেন এবং পরবর্তীতে তা করতে চান, তবে তাকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলাশাসক), মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট (মহকুমা শাসক) বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আবেদনটি অনুমোদিত হলেই এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
4
6
তবে নতুন নিয়মে, জেলাশাসক বা মহাকুমা শাসক-এর দেওয়া অনুমতির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যদি বিলম্বের সময়সীমা এই মেয়াদ ছাড়িয়ে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। দুই বছরের বেশি বিলম্বের ক্ষেত্রে এখন একজন 'ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট'-এর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
5
6
নতুন প্রস্তাবনায় কী কী বিষয় রয়েছে? জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা ২১ দিনের মধ্যে নথিভুক্তকরণ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে নথিভুক্তকরণে ৩০ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিলম্ব হবে, সেখানে প্রয়োজনীয় ফি ও নথিপত্র-সহ জেলা নিবন্ধক বা কোনও অনুমোদিত কর্মকর্তার লিখিত সম্মতির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
6
6
বিদ্যমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, ১ থেকে ২ বছর বিলম্বের ক্ষেত্রে জেলাশাসক/মহকুমাশাসক বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনই যথেষ্ট। কিন্তু বিলম্বের সময়সীমা ২ বছরের বেশি হলে, শুধুমাত্র 'ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট'-এর আদেশের পরেই নথিভুক্তকরণ করা সম্ভব হবে।