মাত্র ৯ বছর বয়সে নাগাল্যান্ডের প্রত্যন্ত একটি ছোট্ট গ্রাম ছেড়ে স্বপ্ন আর একটি ফুটবলকে সঙ্গী করে পথচলা শুরু করেছিল ওয়াংশেম কোনিয়াক।
2
9
সেই ছোট্ট ছেলেটির স্বপ্নের যাত্রা মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম এক মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে।
3
9
১২ বছর বয়সী ওয়াংশেম কোনিয়াক এবার সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট গোথিয়া কাপ-এ ভারতের হয়ে ইতিহাস গড়েছে। সাম্প্রতিককালে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ইস্ট-মোহনের চোখ ধাঁধানো সাফল্য কম। মিনার্ভা কিন্তু বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বিদেশে গিয়ে রীতিমতো দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে।
4
9
মিনার্ভা একাডেমির হয়ে খেলতে নেমে ওয়াংশেম অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেয় এবং দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১২ বিভাগে শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
5
9
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ওয়াংশেমের দুরন্ত গতি, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণভাগে সাহসী দৌড় এবং দুর্দান্ত গোল করার দক্ষতা নজর কেড়েছে সবার।
6
9
বিশেষ করে নকআউট পর্বে তার করা একটি চমৎকার হ্যাটট্রিক মিনার্ভা অ্যাকাডেমিকে ফাইনালে ওঠার পথে বড় শক্তি জুগিয়েছিল। ফাইনালে ব্রাজিলের শক্তিশালী দল আর এস স্পোর্টস ইয়েলোকে ২-১ গোলে হারিয়ে খেতাব জেতে ভারতের মিনার্ভা।
7
9
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু একটি ট্রফিই জয় করেনি ওয়াংশেম। বরং সে প্রমাণ করেছে যে প্রতিভা কখনও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আটকে থাকে না। নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি গ্রামের এক কিশোর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে দেশের গর্ব হয়ে উঠেছেন।
8
9
ওয়াংশেম কোনিয়াকের এই সাফল্য উত্তর-পূর্ব ভারতের অসংখ্য তরুণ ফুটবলারের কাছে নতুন প্রেরণার উৎস। সীমিত সুযোগ-সুবিধা থেকেও কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব—তার জীবনের গল্প সেই বার্তাই বহন করছে।
9
9
ওয়াংশেম কোনিয়াক শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলার নন, তিনি হয়ে উঠেছেন সেই সব শিশু-কিশোরের অনুপ্রেরণা, যারা নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস করে। তার এই অর্জন ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্যও এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার ইঙ্গিত।