২০২৬ সালে বিশ্বের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে সোনা ও রূপোর মতো মূল্যবান ধাতু আবারও বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে।
2
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারবাজারের ওঠানামা ও মুদ্রার অস্থিরতার সময় সোনা ও রূপো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
3
9
বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর সুদের হার নীতি, ডলার শক্তিশালী হওয়া বা দুর্বল হওয়া, এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত—এই সবই সোনা ও রূপোর দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
4
9
ফলে ২০২৬ সালে এই দুই ধাতুর বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সঠিক কৌশল মেনে চললে বিনিয়োগকারীরা এই পরিস্থিতিতেও নিজেদের পোর্টফোলিও সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
5
9
প্রথমত, বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র সোনা বা রূপোর ওপর নির্ভর না করে শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট অংশ মূল্যবান ধাতুতে রাখা উচিত। অনেক আর্থিক পরামর্শদাতা মোট বিনিয়োগের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সোনা বা রূপোতে রাখার পরামর্শ দেন।
6
9
দ্বিতীয়ত, সরাসরি গয়না বা বার কিনে রাখার বদলে আধুনিক বিনিয়োগ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন গোল্ড ইটিএফ, সোভরেন গোল্ড বন্ড বা ডিজিটাল গোল্ড—এসব মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা দুটোই বেশি থাকে। একইভাবে রূপোর ক্ষেত্রেও ইটিএফ বা কমোডিটি মার্কেটের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যায়।
7
9
তৃতীয়ত, বাজারের ওঠানামা দেখে একবারে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক বিশেষজ্ঞ ‘সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যাতে দাম কম থাকলে বেশি ইউনিট এবং দাম বেশি থাকলে কম ইউনিট কেনা যায়।
8
9
এছাড়া বিনিয়োগকারীদের বিশ্ব অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা জরুরি। কারণ এই বিষয়গুলোই মূলত সোনা ও রূপোর দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।
9
9
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালে অনিশ্চয়তার বাজারে সোনা ও রূপো বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ঢাল হতে পারে। তবে আবেগ নয়, পরিকল্পিত কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এই বাজারে বিনিয়োগ করা উচিত। এতে ঝুঁকি কমে এবং পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।