নতুন অর্থবর্ষ শুরু হতেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে একটি বড় প্রশ্ন—কোথায় রাখবেন তাঁদের ফিক্সড ইনকাম বিনিয়োগ? বাজারে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগের চাহিদা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট আবারও উঠে আসছে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে।
2
8
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট হল একটি সরকার-সমর্থিত সঞ্চয় প্রকল্প, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা রেখে নিশ্চিত সুদ পাওয়া যায়। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সুদের হার আগেই নির্ধারিত থাকে, ফলে বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ে না।
3
8
বর্তমানে এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকের জন্য পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটে সুদের হার যথেষ্ট আকর্ষণীয়। ১ বছরের জন্য সুদ ৬.৯%, ২ বছরের জন্য ৭.০%, ৩ বছরের জন্য ৭.১% এবং ৫ বছরের জন্য সর্বোচ্চ ৭.৫% সুদ দেওয়া হচ্ছে।
4
8
বিশেষ করে ৫ বছরের ডিপোজিটে আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
5
8
ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক একই মেয়াদে প্রায় ৬.৫% থেকে ৭.২৫% সুদ দেয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পোস্ট অফিস টার্ম ডিপোজিট সুদের দিক থেকে এগিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি, পোস্ট অফিস স্কিমে সরকারের গ্যারান্টি থাকায় ঝুঁকি প্রায় শূন্য, যা অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে ব্যাঙ্কের তুলনায় বেশি নিরাপদ মনে হয়।
6
8
এই স্কিমে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যায় এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধাও রয়েছে। একক বা যৌথ—দুইভাবেই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আগাম ভাঙানোর সুবিধাও থাকে, যদিও এতে কিছু সুদ কমে যেতে পারে।
7
8
বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতার সময়ে, যেখানে শেয়ারবাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেখানে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্থিতিশীল রিটার্নের নিশ্চয়তা দেয়। যারা ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে টাকা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
8
8
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন অর্থবর্ষের শুরুতে সঠিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই পরিকল্পনায় পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য জায়গা দখল করে রেখেছে।