বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বহু পুরোনো, তবে এবার সামনে এসেছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত এক পরিবেশগত সংকট।
2
8
এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এলাকায় পর্বতারোহীদের বর্জ্য এবং বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ মানুষের মূত্র বা প্রস্রাব কীভাবে বরফ গলা জল ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে চরম বিষাক্ত করে তুলছে, তা নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, হাজার হাজার পর্বতারোহী ও শেরপাদের উপস্থিতির কারণে বরফাবৃত এই শান্ত শৃঙ্গ এখন মানুষের জৈবিক বর্জ্যের এক বড় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
3
8
প্রতিটি আরোহণ মৌসুমে বেস ক্যাম্পে শত শত তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করেন দেশ-বিদেশের অভিযাত্রীরা। সেখানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তরল বর্জ্য অর্থাৎ মূত্র ফেলা হচ্ছে সরাসরি বরফের উপরিভাগে বা আলগা পাথরের স্তূপে।
4
8
অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে এগুলো স্বাভাবিকভাবে পচে বা মিশে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না। ফলে প্রতিদিন জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া, নাইট্রোজেন, ওষুধের অবশিষ্টাংশ ও নানা রাসায়নিক বরফের স্তরে বছরের পর বছর জমে থাকছে।
5
8
গ্রীষ্মকালে বা তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেই যখন এই বরফ ও হিমবাহ গলতে শুরু করে, তখন সেই জমে থাকা তরল বিষের মতো ছড়িয়ে পড়ে নিচের পানির উৎসগুলোতে। হিমালয়ের এই বরফগলা জলই নিচে বসবাসকারী শেরপা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় গ্রামের মানুষের পানীয় জল ও নিত্যদিনের প্রধান অবলম্বন।
6
8
গবেষকরা জলের নমুনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল মানুষই নয়, তীব্র দূষণের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্বতের সংবেদনশীল জলজ উদ্ভিদ ও অণুজীব।
7
8
পরিবেশবিদ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এভারেস্টের পরিত্যক্ত তাঁবু, অক্সিজেনের বোতল ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে জোর দিয়ে আসছিল। তবে এই নতুন পর্যবেক্ষণ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে দৃশ্যমান আবর্জনার চেয়েও অদৃশ্য রাসায়নিক দূষণ এখন অনেক বেশি ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।
8
8
অবিলম্বে যদি বেস ক্যাম্পে কঠোর প্রযুক্তিভিত্তিক তরল বর্জ্য নিষ্কাশন ও বহনযোগ্য টয়লেট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক না করা হয়, তবে হিমালয়ের রূপ চিরতরে বিষাক্ত হয়ে পড়বে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গবেষকরা।