আরশোলার দুধ নিয়ে প্রায় এক দশক আগের এক চমকপ্রদ আবিষ্কার অবশেষে বিজ্ঞানের এক অনন্য স্বীকৃতি পেল। গরুর দুধের তুলনায় তিন গুণ বেশি শক্তিসম্পন্ন এই বিশেষ পুষ্টি উপাদান চিহ্নিত ও বিশ্লেষণের জন্য ভারত, ফ্রান্স, জাপান এবং আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীকে ২০২৬ সালের রসায়নে আইজি নোবেল (Ig Nobel) পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানীদের হাতে এই ব্যঙ্গাত্মক অথচ অত্যন্ত সম্মানজনক পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।
2
7
সাধারণত মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধের কথাই আমরা জেনে এসেছি, তবে কীটপতঙ্গের জগতেও যে দুধের মতো পুষ্টিকর উপাদান পাওয়া সম্ভব, তা প্রথম নজরে আসে প্যাসিফিক বিটল ককরোচ (Diploptera punctata) নামের একটি বিশেষ আরশোলার মাধ্যমে। অধিকাংশ আরশোলা ডিম পাড়লেও এই বিশেষ প্রজাতিটি সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে।
3
7
ভ্রূণাবস্থায় শাবকদের বাঁচিয়ে রাখতে এবং পুষ্টি জোগাতে স্ত্রী আরশোলার শরীর থেকে দুধের মতো এক ধরনের তরল নিঃসৃত হয়। এই তরল শাবকদের পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে ঘন ও অত্যন্ত পুষ্টিকর প্রোটিন স্ফটিকে (প্রোটিন ক্রিস্টাল) রূপান্তরিত হয়।
4
7
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক এক বিজ্ঞানী দল এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি পদ্ধতির মাধ্যমে এই স্ফটিকের গঠন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় ধরা পড়ে, এই স্ফটিকগুলো কেবল প্রোটিনেই ঠাসা নয়, এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় চর্বি এবং শর্করার অপূর্ব সমন্বয়।
5
7
সমপরিমাণ গরুর দুধের তুলনায় এর একটি স্ফটিকে তিন গুণেরও বেশি শক্তি সংরক্ষিত থাকে। অল্প জায়গার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পুষ্টি জমিয়ে রাখার প্রকৃতির এই অদ্ভুত কৌশল বিজ্ঞানীদের রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছিল।
6
7
আইজি নোবেল পুরস্কার মূলত এমন সব গবেষণাকে দেওয়া হয়, যা প্রথম দেখায় মানুষকে হাসায় এবং পরক্ষণেই গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। আপাতদৃষ্টিতে আরশোলার দুধের কথা শুনে হাসি বা ঘেন্না লাগলেও, এর পেছনের জটিল গঠনগত জীববিজ্ঞান ও ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার দিকটি বিজ্ঞানজগতে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
7
7
জুরিখের মঞ্চে এই আন্তর্জাতিক দলের ভারতীয় গবেষক রামস্বামী সুব্রামানিয়ানসহ অন্য বিজ্ঞানীরা পুরস্কার গ্রহণ করেন। এই গবেষণার সূত্র ধরে আগামী দিনে হয়তো মানবজাতির জন্য বিকল্প ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটিনের নতুন কোনও পথ খুলে যেতে পারে, এমন আশাই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।