ইপিএফ, পিপিএফ নাকি এনপিএস- অবসরের জন্য সঞ্চয়ে কোনটি লাভদায়ক?
১৬ মে ২০২৬ ১৩ : ৫৩
- 1
- 13
ভারতের বেতনভোগী কর্মীদের সামনে অবসরের সঞ্চয়ের জন্য বেছে নেওয়ার মতো বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম হল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) ইপিএফ, পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ) এবং ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম ট্রাস্টের (এনপিএসটি) এনপিএস। এগুলির প্রতিটিরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও উপযোগিতা। বেতন, কর সংক্রান্ত লক্ষ্য এবং অবসরের পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে কর্মীরা এই সঞ্চয় মাধ্যমগুলো বেছে নিতে পারেন।
- 2
- 13
অধিকাংশ বেতনভোগী কর্মীর জন্যই ইপিএফ বাধ্যতামূলক। এটি সরকারের নিশ্চয়তাপুষ্ট ও স্থিতিশীল রিটার্ন প্রদান করে এবং এতে নিয়োগকর্তার অবদানের সুবিধাও যুক্ত থাকে।
- 3
- 13
যারা দীর্ঘমেয়াদী ও করমুক্ত সঞ্চয় করতে চান, এমন রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের জন্য পিপিএফ অত্যন্ত উপযোগী। এতে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয়তা রয়েছে এবং বর্তমানে এটি ৭.১ শতাংশ বার্ষিক সুদের হারে নিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করে। অন্যদিকে, এলপিএস-এ ইকুইটি (শেয়ার বাজার) এবং ডেট (ঋণপত্র)- উভয় খাতেই বিনিয়োগের সুযোগ থাকে। ফলে অবসরের জন্য একটি বড় অঙ্কের তহবিল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি বেশ আকর্ষণীয় একটি বিকল্প। পুরনো কর ব্যবস্থার অধীনে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে অতিরিক্ত কর ছাড়ের সুবিধাও মেলে।
- 4
- 13
এই তিনটি সঞ্চয় মাধ্যমের বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক বিকল্পটি বেছে নিতে পারেন:
- 5
- 13
পিপিএফ হল সরকারের নিশ্চয়তাপুষ্ট একটি জনপ্রিয় ও দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় প্রকল্প, যা নিশ্চিত এবং করমুক্ত রিটার্ন প্রদান করে। এই প্রকল্পে ১৫ বছরের একটি 'লক-ইন পিরিয়ড' বা জমানো টাকা তোলার ওপর বিধিনিষেধের সময়সীমা থাকে এবং প্রতি আর্থিক বছরে ৫০০ টাকা থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে। পিপিএফ-এ জমানো টাকা ব্যবহার করে করের বোঝা কমানো সম্ভব। এছাড়া মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্ত মোট অর্থ এবং অর্জিত সুদ- উভয়ই সম্পূর্ণ করমুক্ত। এই প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর অন্ত অন্তর আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
- 6
- 13
পিপিএফ-এর হিসাব অনুসারে বার্ষিক বিনিয়োগের পরিমাণ: ১,৫০,০০০ টাকা। সময়কাল (বছরে): ৩০ বছর। সুদের হার: ৭.১০ শতাংশ। বিনিয়োগকৃত মোট অর্থ: ৪৫ লক্ষ টাকা। অর্জিত সুদ: ১.০৯ কোটি টাকা। মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্ত মোট মূল্য: ১.৫৪ কোটি টাকা।
- 7
- 13
ইপিএফ হল ভারতের বেতনভোগী কর্মীদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প। এটি ইপিএফও দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এই প্রকল্পে কর্মী ও নিয়োগকর্তা- উভয়কেই কর্মীর মাসিক 'মূল বেতনের' ওপর ভিত্তি করে ১২ শতাংশ হারে অর্থ জমা দিতে হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৮.২৫ শতাংশ হারে রিটার্ন বা সুদ দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ করমুক্ত হয়ে যায়।
- 8
- 13
এই প্রকল্পের অন্যতম একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হল, এতে কর্মীদের নিজেদের অবদানের পরিমাণ বা জমানো টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি 'স্বেচ্ছাসেবী প্রভিডেন্ট ফান্ড' (ভিপিএফ)-এর মাধ্যমে করা সম্ভব, যা একটি ঐচ্ছিক সঞ্চয় প্রকল্প। এর মাধ্যমে কর্মীরা তাদের ইপিএফ-এ বাধ্যতামূলক ১২ শতাংশের- চেয়েও বেশি অর্থ জমা করার সুযোগ পান।
- 9
- 13
ইপিএফ-এর হিসাব- মাসিক মূল বেতন - ৫০,০০০ টাকা। বয়স: ৩০ বছর। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি - ৫ শতাংশ। রিটার্ন বা সুদের হার - ৮.২৫ শতাংশ। ৬০ বছর বয়সে আনুমানিক সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ২.৬ কোটি টাকা।
- 10
- 13
এনপিএস হল একটি স্বেচ্ছাসেবী এবং বাজার-সংযুক্ত অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প। ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী যেকোনও নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। এই প্রকল্পের আওতায়, একজন ব্যক্তি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার পেনশন তহবিল বা 'কর্পাস' গড়ে তুলতে পারেন। ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর, মোট জমানো অর্থের ৬০ শতাংশ করমুক্তভাবে তুলে নেওয়া যায়। অন্যদিকে, অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে একটি 'অ্যানুইটি' বা বার্ষিক বৃত্তি পরিকল্পনা কিনতে হয়। এই অ্যানুইটি থেকেই পরবর্তীতে মাসিক পেনশন হিসেবে অর্থ পাওয়া যায়।
- 11
- 13
এনপিএস-এর হিসাব অনুসারে, মাসিক বিনিয়োগ: ১২,৫০০ টাকা। বিনিয়োগের ওপর প্রত্যাশিত রিটার্ন: ১০ শতাংশ, বর্তমান বয়স: ৩০ বছর। অবসর গ্রহণের বয়স: ৬০ বছর। অ্যানুইটি কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের শতাংশ: ৪০ শতাংশ। অ্যানুইটি থেকে প্রত্যাশিত রিটার্ন: ৮ শতাংশ। পেনশন তহবিল বা সম্পদ: ২,৮৪,৯১,৫৬৭ টাকা। বিনিয়োগের মোট পরিমাণ: ৪৫,০০,০০০ টাকা। এককালীন উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ: ১,৭০,৯৪,৯৪০ টাকা। অ্যানুইটির মূল্য: ১,১৩,৯৬,৬২৭ টাকা. মাসিক পেনশনের পরিমাণ: ৫৬,০০০ টাকা
- 12
- 13
এই হিসাব থেকে দেখা যায় যে- পিপিএফ, ইপিএফ এবং এনপিএস-এর মতো প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। পিপিএফ-এ রিটার্নের হার কিছুটা কম হলেও, এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাযুক্ত একটি প্রকল্প। ইপিএপ-এর কার্যপদ্ধতিও অনেকটা একই রকম, তবে এতে রিটার্নের হার সামান্য বেশি হওয়ায় এটি বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, এনপিএস যেহেতু সরাসরি শেয়ার বাজারের সঙ্গে যুক্ত, তাই এতে সর্বোচ্চ পরিমাণ তহবিল বা 'কর্পাস' গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকে; তবে একই সঙ্গে এতে বিনিয়োগের ঝুঁকিও বিদ্যমান থাকে।
- 13
- 13











