১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই থ্রিলারে কেন্দ্রীয় চরিত্র আন্ডারকভার এজেন্ট জসকিরাত সিং রাঙ্গি, যার অভিযান ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত।
2
10
রণবীর সিং, অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত এবং আর.মাধবন -এর উপস্থিতিতে ছবিটি ইতিমধ্যেই আলোচনায়।
3
10
তবে শুধু অ্যাকশন বা নাটকীয়তা নয়, বাস্তবের একাধিক ঘটনার প্রতিফলনও এই ছবির বয়ানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সিনেমার গঠন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে এই পাঁচটি বাস্তব ঘটনার ‘রেফারেন্স’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
4
10
১. ২০১৪-র ক্ষমতার পালাবদল
ছবিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন, যেখানে নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিজেপি। শপথগ্রহণের আর্কাইভ ফুটেজ-সহ একাধিক দৃশ্য ব্যবহার করে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে দেখানো হয়েছে। ছবির বয়ানে এটি এমন এক মোড়, যেখানে দেশের নিরাপত্তা নীতিতে দৃঢ়তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
5
10
২. নোটবন্দির সিদ্ধান্ত
২০১৬ সালের নোটবন্দিও ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দৃশ্য সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির মধ্যে এই পদক্ষেপকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং অর্থ জোগানের উপর আঘাত হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
6
10
৩. দায়ুদ ইব্রাহিম ও আইএসআই যোগসূত্র
ছবিতে ইঙ্গিত রয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের কার্যকলাপের দিকে।
7
10
নোটবন্দির সিদ্ধান্তকে এই নেটওয়ার্ক ভাঙার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে, যা ছবির কাহিনিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।
8
10
৪. আতিক আহমেদের মৃত্যু
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রয়াগরাজে পুলিশি হেফাজতে খুন হন আতিক আহমেদ। ছবিতে এই ঘটনাকে রূপান্তরিত করে দেখানো হয়েছে, যেখানে তাকে সন্ত্রাসবাদী চক্রের সহায়ক হিসেবে পেশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে “অ্যান্টি-ইন্ডিয়া” শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
9
10
৫. উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক
২০১৬ সালের উরি জঙ্গি হামলার পর ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। এই সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ এনে ছবিতে “নতুন ভারতের” কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সংলাপে সেই আত্মবিশ্বাসী সুরও স্পষ্ট, যা ছবির দেশপ্রেমের আবহকে জোরদার করে।
10
10
সব মিলিয়ে, ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ শুধু একটি স্পাই থ্রিলার নয়, এটি বাস্তব রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাকে জড়িয়ে তৈরি এক সমসাময়িক বয়ান। বাস্তব আর কল্পনার এই মিশেলই ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে, আর সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই তা ঘিরে আলোচনা থামছে না।