পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল আমেরিকা। এই সময় ইরান থেকেও তেল কিনেছিল ভারত। কিন্তু এখন রাশিয়া এবং ইরানের তেল কেনায় আর ভারতকে ছাড় দিতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে নতুন করে সরবরাহ সঙ্কট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
2
17
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৫ এপ্রিল জানিয়েছেন, আমেরিকা রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার উপর আর ছাড় দেবে না।
3
17
হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, “আমরা রাশিয়া ও ইরানের তেলের কেনায় আরও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ছাড় শুধুমাত্র সেইসব কার্গোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল “যেগুলি ১১ মার্চের আগে সমুদ্রে ছিল।”
4
17
১২ মার্চের আগে বোঝাই করা রুশ কার্গোর জন্য ৩০ দিনের ছাড়ের মেয়াদ এখন শেষ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের তেলের জন্য দেওয়া পৃথক ছাড়ের মেয়াদ ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।
5
17
গত এক মাস ধরে ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলি এই ছাড়ের ফলে ব্যাপক পরিমাণে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তারা এখন চিন্তায়।
6
17
জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যে তা স্পষ্ট। ২০২৬ সালের মার্চে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৫৩% বেশি। দৈনিক প্রায় ১.৯৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করা হয়েছিল। এই আমদানির একটি বড় অংশই ছাড়ের সময়কালে।
7
17
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাসগুলিতে ভারতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি ক্রমাগত কমছিল। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে ছিল দৈনিক ১.২১ মিলিয়ন ব্যারেল। সেখান থেকে কমে জানুয়ারিতে দৈনিক ১.০৫ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। ফেব্রুয়ারিতেও একই ধারা বজায় ছিল।
8
17
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রুশ তেলের উপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়। যুদ্ধের সময় ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি ফেব্রুয়ারির ৯৬৯,০০০ ব্যারেল থেকে কমে মার্চের শেষে প্রায় ৭৫% হ্রাস পেয়ে দৈনিক প্রায় ২৪০,০০০ ব্যারেলে নেমে আসে।
9
17
২০২৩-২৪ সালে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৩৫.৯% এবং ২০২৪-২৫ সালে ৩৫.৮% রাশিয়া থেকে এসেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় রাশিয়ার তেলই ছিল ভারতের ভরসা।
10
17
১৯ এপ্রিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় ভারতকে নতুন উৎসের সন্ধান করতে হচ্ছে, যেখান থেকে দৈনিক ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করা যায়। যা খরচ সাপেক্ষ। কারণ, হরমুজ দিয়ে সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ঘুরপথে তেল আনতে খরচ বেশি পড়বে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা।
11
17
এখন ভারত কী করবে? সরকার বরাবর দাবি করে আসছে যে, এখন একটি উৎসের উপর ভরসা করে তেল আমদানি করা হচ্ছে না। নয়াদিল্লির যুক্তি, উৎসের বৈচিত্র্যের কারণে ভারতের তেলের সমস্যা হবে না।
12
17
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা এর আগে বলেছিলেন, “পরিশোধিত তেল সংগ্রহ করা একটি প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে আমদানি করছে।”
13
17
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারত আপৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে এবং হরমুজের সংকীর্ণ জলপথ এড়িয়ে অন্যান্য সরবরাহকারীদের থেকে তেল কিনতে পারে।
14
17
বিকল্প হিসেবে লাতিন আমেরিকার প্রথম সারিতে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং ইকুয়েডর ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে।
15
17
অন্যদিকে, গায়ানা ২০২৬ সালে দৈনিক প্রায় ১.১ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন করবে। দেশটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল নতুন তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
16
17
পশ্চিম আফ্রিকাও একটি বৃহত্তর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাইজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল শোধনাগারগুলিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের একটি বিকল্প সরবরাহ করবে। একই সময়ে, ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রয় বাড়াতে পারে।
17
17
এই বিকল্পগুলোর কোনওটিই কম দামে পাওয়া রুশ তেলের বিকল্প নয়। কিন্তু এগুলি ভারতকে রুশ ও ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার ধাক্কা সামলানোর জন্য যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে।