ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন লিমিটেড (WBIDC)-এর বিপুল লোকসান ধরা পড়ল কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর রিপোর্টে। লোকসানের পরিমাণ ১২.৮৬ কোটি টাকা।
2
14
সিএজি রিপোর্ট অনুযায়ী, নদিয়ার হরিণঘাটায় ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের লজিস্টিক্স শাখা ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেসকে জমি বরাদ্দ করতে গিয়ে এত টাকা ক্ষতি হয়েছে।
3
14
পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম প্রকল্প এলাকার মধ্যে থাকা বৃহৎ জলাশয়গুলির বিষয়ে বিবেচনায় না করেই জমির দাম নির্ধারণ করেছিল। নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ নীতির বাইরে গিয়ে এভাবে দাম গণনা করায় ১২.৮৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
4
14
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৩২৬.৯৩ একর জমি শিল্পের জন্য নিগমকে দেওয়া হবে। নিগমের পরিকল্পনা ছিল তিনটি পর্যায়ে বিরাট শিল্প পার্ক গঠন করা হবে।
5
14
হরিণঘাটায় মোট ৩৫৮.১৯ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ২০৬ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা নিগমকে বরাদ্দ করেছিল মমতা ব্যানার্জির সরকার। ২০১৮ সালের মার্চে এই অর্থ ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরকে প্রদান করা হয়।
6
14
একই বছরের আগস্টে হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম আগ্রহপত্র জারি করে। ৯৯ বছরের লিজের জন্য জমির মূল্য একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। অক্টোবরে নিগম ওই জমি অধিগ্রহণ করে।
7
14
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেই ফ্লিপকার্টের লজিস্টিক্স সংস্থা ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেস হরিণঘাটায় একটি আঞ্চলিক বিতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ১০৭.৩৫ একর জমির আবেদন করে।
8
14
সংস্থাটি এই প্রকল্পে ৯৯১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। নিগমের বোর্ড সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। অক্টোবরে জমি অধিগ্রহণ করে বরাদ্দ করা হয় ফ্লিপকার্টকে।
9
14
মন্ত্রিসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রস্তাব পাশ করে। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাকার্টকে ৬৮.১৬ কোটি টাকায় জমি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে জমি হাতে পায় ইনস্টাকার্ট।
10
14
২০২০ সালের মার্চ মাসে ইনস্টাকার্টকে অতিরিক্ত ১.৭৭ একর জমি ১.৭ কোটি টাকায় বরাদ্দ করা হয়। ওই জমির দখল সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০২০ সালের জুন মাসে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোট ১০৯.১২ একর জমির জন্য ইনস্টাকার্টের সঙ্গে ৯৯ বছরের লিজ চুক্তি হয়।
11
14
২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিএজি জানায়, হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের লেআউট প্ল্যান অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় ৫৫.৮৯ একর জলাশয় রয়েছে, যা শিল্পোন্নয়নের কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়। ফলে শিল্পের জন্য প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ৩০২.২৯৯ একর।
12
14
পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম জমির একর-পিছু মূল্য নির্ধারণের সময় মোট ৩৫৮.১৯ একর জমিকেই হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ধরে, যার মধ্যে ওই জলাশয়ের অংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিএজি-র রিপোর্ট বলছে, শিল্পের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ধরে পুনরায় হিসেব করলে জমির বেস প্রাইস একর প্রতি ৭৫ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা হওয়া উচিত ছিল।
13
14
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম ইনস্টাকার্টের কাছ থেকে একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা হারে মূল্য আদায় করে। এই হিসেবে, ১০৯.১২ একর জমির জন্য ইনস্টাকার্টের কাছ থেকে লিজ প্রিমিয়াম বাবদ ৮২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা আদায় করা উচিত ছিল।
14
14
কিন্তু WBIDCL আদায় করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। ফলে ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার ঘাটতি হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে রাজ্য সরকার সিএজি-কে জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে নিগম বিস্তারিত আলোচনার পর একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা বেসপ্রাইস অনুমোদন করেছিল। একই ভিত্তিতে জমি বরাদ্দের প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভাও অনুমোদন করেছিল।