সিদ্ধ ডিম হয়ে উঠবে বিষ! সংরক্ষণের এই ভুলে হতে পারে চরম ক্ষতি, ব্যাকটিরিয়ার থেকে সুরক্ষা পেতে কী করবেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ : ৪৫
শেয়ার করুন
1
9
সিদ্ধ ডিম সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর প্রোটিনের অন্যতম উৎস। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটে অনেকের কাছেই এটি প্রতিদিনের খাবারের অংশ। তবে সিদ্ধ ডিম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল করলেই এই পুষ্টিকর খাবারই হতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্মস্থান৷
2
9
ডিম সিদ্ধ করার পর তার প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাইরের জীবাণু সহজেই ডিমের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। ডিমের খোসার বাইরে প্রাকৃতিকভাবে একটি সুরক্ষামূলক স্তর থাকে, যাকে ‘কিউটিকল’ বলা হয়।
3
9
ডিম সিদ্ধ করার সময় এই কিউটিকল স্তরটি অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ডিমের খোসা আগের মতো জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে না। এই অবস্থায় সিদ্ধ ডিম ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিলে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কা বাড়ে।
4
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধ ডিম কখনও দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। ডিম সিদ্ধ করার পর দুই ঘণ্টার মধ্যে তা খেয়ে নেওয়া নিরাপদ। আর বাইরের তাপমাত্রা যদি ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়, তাহলে সিদ্ধ ডিম এক ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে নেওয়া উচিত।
5
9
আগেভাগে সিদ্ধ ডিম তৈরি করে রাখতে চাইলে সিদ্ধ করার পর যত দ্রুত সম্ভব তা ফ্রিজে রাখতে হবে। খোসা না ছাড়ানো সিদ্ধ ডিম সাধারণত ঠান্ডা তাপমাত্রায় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সাত দিন পর্যন্ত নিরাপদে খাওয়া যেতে পারে।
6
9
সিদ্ধ ডিম ফ্রিজের দরজার তাক বা ডোর কম্পার্টমেন্টে না রেখে ভিতরের তাকের দিকে রাখা ভাল। কারণ ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা ও বন্ধ করার ফলে তাপমাত্রার ওঠানামা হয়। এতে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। ফ্রিজের ভিতরের তাক তুলনামূলকভাবে স্থির ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখে।
7
9
ডিম খাওয়ার আগে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। সিদ্ধ ডিম থেকে যদি অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ, বিশেষ করে পচা সালফারের মতো গন্ধ বের হয় অথবা ডিমের উপরিভাগ অস্বাভাবিকভাবে পিচ্ছিল মনে হয়, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভাল। নষ্ট ডিম খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
8
9
তাই সিদ্ধ ডিম নিরাপদে খেতে হলে কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন, খোসা না ছাড়িয়ে ডিম সংরক্ষণ করুন, সিদ্ধ করার পর দ্রুত ফ্রিজে রাখুন।
9
9
সামান্য সচেতনতা বজায় রাখলেই খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি এড়িয়ে এই পুষ্টিকর প্রোটিনের উৎস উপভোগ করা সম্ভব। এই তথ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ সচেতনতার জন্য দেওয়া হয়েছে। খাদ্যাভ্যাসে কোনও পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।