২৬শে ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় রেল ট্রেনের ভাড়া বেড়েছে। সামনেই বাজেট। তাহলে কী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর থেকে টিকিটে ছাড়ের বিষয়ে কোনও সুখবর পেতে পারেন প্রবীণ নাগরিকরা? ফের আলোচনা, জল্পনা। ২০২৬ সালের বাজেট যতই ঘনিয়ে আসছে, বয়স্ক যাত্রীরা আশা করছেন যে- দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ থাকা এই সুবিধাটি অবশেষে ফিরবে।
2
6
সদ্য ভাড়া বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় রেলের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি শুধুমাত্র ২১৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের যাত্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাধারণ শ্রেণির যাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা বেশি দিতে হবে, আর নন-এসি এবং এসি মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণকারীদের প্রতি কিলোমিটারে ২ পয়সা বেশি দিতে হবে।
3
6
কোভিড মহামারীর আগে, প্রবীণ নাগরিকরা দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিটের ভাড়ায় ছাড় পেতেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষরা টিকিটে ৪০ শতাংশ ছাড় পেতেন, আর ৫৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মহিলারা ৫০ শতাংশ ছাড় পেতেন। এই সুবিধা রাজধানী, শতাব্দী এবং দুরন্তের মতো প্রথমসারির ট্রেনগুলিতেও প্রযোজ্য ছিল, যা দূরপাল্লার ভ্রমণকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী করে তুলেছিল।
4
6
২০২০ সালে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, সরকার কম যাত্রী সংখ্যা এবং রেলওয়ের আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে এই ছাড়গুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরেও এবং ট্রেনগুলো আবার ভিড়ে পূর্ণ হয়ে গেলেও, এই সুবিধাটি পুনরুদ্ধার করা হয়নি, যা অনেক প্রবীণকে হতাশ করেছে।
5
6
কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? অবসরের পর, বেশিরভাগ প্রবীণ নাগরিক সীমিত আয়, পেনশন বা সঞ্চয়ের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। চিকিৎসা, তীর্থযাত্রা বা পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য ভ্রমণ প্রায়শই অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ভাড়া বৃদ্ধির ফলে, ছাড়ের অভাবে তাদের জন্য ট্রেন ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
6
6
১লা ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হবে। এখন আশা করা হচ্ছে ওই দিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রবীণ নাগরিকদের ছাড়ের বিষয়টি ঘোষণা করবেন। সরকারকে রেলের ভাড়ার ছাড় পুনরায় চালু করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বিভিন্ন যাত্রী সংগঠনের তরফে। এটি অনুমোদিত হলে, সারা দেশের লক্ষ লক্ষ বয়স্ক যাত্রীর জন্য সরাসরি স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।