রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ষষ্ঠ তথা বর্তমান সরসংঘচালক মোহন ভাগবত শুক্রবার ৭৬ বছরে পদার্পণ করলেন।
2
9
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মেধাবী ছাত্র মোহন ভাগবত কীভাবে আরএসএস-এর প্রতি অনুরক্ত হলেন? কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন এই সংগঠনের কাজে? নেহাতই সাধারণ একজন প্রচারক থেকে সরসংঘচালকের পদে পৌঁছে যাওয়া! চড়াউতরাই পেরিয়ে এই যাত্রা কীভাবে সম্ভ হয়েছিল? এই প্রতিবেজনে সেগুলোই তুলে ধরা হবে।
3
9
১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চন্দ্রপুরে জন্মগ্রহণকারী ভাগবত লোকমান্য তিলক বিদ্যালয় থেকে তাঁর স্কুলজীবন শেষ করেন। পরবর্তীতে তিনি চন্দ্রপুরের জনতা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে 'ব্যাচেলর অফ সায়েন্স' কোর্সের প্রথম বর্ষ শেষ করার পর পশুচিকিৎসা বিষয়ক পড়াশোনা শুরু করেন।
4
9
এরপর মোহন ভাগবত নাগপুরের সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে যোগ দেন। সেখানে ভেটেরিনারি ডিগ্রি সম্পন্ন করে একজন পশুচিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি আকোলার একটি কলেজে পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হন। তবে, ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালীন তিনি পড়াশোনা ছেড়ে আরএসএস-এর পূর্ণকালীন 'প্রচারক' (কর্মী) হিসেবে কাজ শুরু করেন।
5
9
তবে, পশুচিকিৎসা পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার পরিবর্তে ভাগবত জনসেবার পথ বেছে নেন। ভাগবত আরএসএস-এর একনিষ্ঠ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ঠাকুরদা নানাসাহেব ভাগবত এবং বাবা মধুকররাও ভাগবত সংঘের প্রবীণ কর্মী ও প্রচারক ছিলেন। স্ববাবিকভাবেই ছোট থেকে এই আদর্শের প্রতি টান ছিল।
6
9
সংঘের প্রচারক হিসাবে মোহন ভাগবত মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলায় কাজ শুরু করেন। পরে তিনি বিদর্ভ ও বিহারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
7
9
সংঘের সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতার জোরে তিনি দ্রুত পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০০ সালে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক বা সরকার্যবাহ নির্বাচিত হন।
8
9
২০০৯ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন আরএসএস প্রধান কে এস সুদর্শন স্বাস্থ্যগত ও বয়সের কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় সংগঠনের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও কার্যনির্বাহকদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে মোহন ভাগবতকে সংঘের ষষ্ঠ সরসঙ্ঘচালক (প্রধান) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
9
9
সেই থেকে ১৭ বছর ধরে সংঘের দায়িত্ব মোহন ভাগবতের কাঁধেই। হিন্দুত্ব ভাবধারা, আদর্শ, ভারতীয়ত্বকে তুলে ধরতে দেশ-বিদেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ৭৫ বছরের এই 'তরুণ'।