কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সরকারি অবসরকালীন প্রকল্প 'অটল পেনশন যোজনা' আরও পাঁচ বছরের জন্য (২০৩০-৩১ আর্থিক বছর) বাড়িয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল লক্ষ লক্ষ স্বল্প আয়ের এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য বার্ধক্যে আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা এবং ভারতকে একটি পেনশনভোগী সমাজে রূপান্তরিত হতে সহায়তা করা।
2
10
'অটল পেনশন যোজনা' প্রকল্প ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (এনপিএস) থেকে কিছুটা আলাদা, কারণ এটা শুধুমাত্র অসংগঠিত ক্ষেত্রের জন্য। যাঁরা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এনপিএস হল সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের বেতনভোগী পেশাদারদের জন্য।
3
10
'অটল পেনশন যোজনা' কী? একটি সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, যা ৬০ বছর বয়সের পর সুবিধাভোগীদের ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত একটি নিশ্চিত ন্যূনতম মাসিক পেনশন প্রদান করে। সুবিধাভোগীরা আমৃত্যু এই পেনশন পেতে পারেন।
পেনশনের পরিমাণ যোজনার অধীনে নথিভুক্ত সদস্যদের অবদানের উপর নির্ভর করে। গ্রাহক এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রী উভয়ই পেনশনের সুবিধা পেতে পারেন।
4
10
'অটল পেনশন যোজনা' প্রকল্পটি পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA) দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি একটি স্বেচ্ছামূলক অবদান প্রকল্প।
5
10
'অটল পেনশন যোজনা'-র সুবিধাগুলো কী কী? এই প্রকল্পটি নাগরিকদের, বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের, তাদের অবসর জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। গ্রাহকের মৃত্যুর পর, তাঁর স্বামী/স্ত্রীও আমৃত্যু একই পরিমাণ পেনশন পাওয়ার অধিকারী হবেন। গ্রাহক এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রী উভয়ের মৃত্যুর পর, গ্রাহকের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত জমা হওয়া পেনশন তহবিল মনোনীত ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারবেন।
6
10
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী সমস্ত ভারতীয় নাগরিক 'অটল পেনশন যোজনা' প্রকল্পের জন্য আবেদন করার যোগ্য। আবেদনকারীর শুধু সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং আধার সংযুক্ত একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এই যোজনার অধীনে ব্যক্তিদের ন্যূনতম ২০ বছর ধরে টাকা জমা করতে হবে। স্বাবলম্বন প্রকল্পের যে সুবিধাভোগীরা 'অটল পেনশন যোজনা'-তে স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাঁরাও নথিভুক্ত হওয়ার যোগ্য।
তবে, যারা আয়কর প্রদান করেন, তারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এটা ১ অক্টোবর, ২০২২ থেকে কার্যকর হয়েছে।
7
10
'অটল পেনশন যোজনা'-র জন্য কীভাবে আবেদন করবেন? যোগ্য নাগরিকরা অংশগ্রহণকারী ব্যাঙ্ক শাখা থেকে তালিকাভুক্তি ফর্ম সংগ্রহ করে বা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা পিএফআরডিএ থেকে সরাসরি ডাউনলোড করে অটল পেনশন যোজনার জন্য আবেদন করতে পারেন। ফর্মে প্রয়োজনীয় বিবরণ পূরণ করার পর, আধার কার্ডের একটি ফটোকপিসহ এটি ব্যাঙ্কে জমা দিন। সহজে বোঝার এবং ব্যবহারের সুবিধার জন্য, এপিওয়াই ফর্মটি বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় উপলব্ধ। অনুমোদন পেলে, আবেদনকারীরা এসএমএসের মাধ্যমে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাবেন।
8
10
'অটল পেনশন যোজনা'-য় আবেদনের সহজ ধাপ: ধাপ ১: যেকোনও অংশগ্রহণকারী ব্যাঙ্কের শাখা বা পোস্ট অফিস থেকে এপিওয়াই রেজিস্ট্রেশন ফর্ম সংগ্রহ করুন। ধাপ ২: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্টের বিবরণসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন। আপনি যে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে সরাসরি ফর্মটি জমা দিতে পারেন। ধাপ ৩: ফর্ম জমা দেওয়ার আগে আপনার পুরো নাম, জন্ম তারিখ এবং বয়স, সেইসঙ্গে আপনার মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং আধার নম্বর-সহ ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করেছেন কিনা তা নিশ্চিত করুন। ধাপ ৪: বিবাহিত ব্যক্তিদের তাঁদের স্বামী/স্ত্রীর নাম এবং বয়সও প্রদান করতে হবে। ধাপ ৫: সমস্ত আবেদনকারীকে একজন মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে হবে এবং তার সাথে সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে। ধাপ ৬: কাঙ্ক্ষিত মাসিক পেনশনের পরিমাণ উল্লেখ করুন। ধাপ ৭: ফর্মের শেষে তারিখ এবং স্থান লিখুন এবং একটি স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ দিন, যা প্রমাণ করবে যে আপনি এপিওয়াই-এর শর্তাবলী বোঝেন।
9
10
একটি অনলাইন এপিওয়াই ক্যালকুলেটর মাসিক অবদানের উপর ভিত্তি করে পেনশনের পরিমাণের একটি অনুমান পেতে সাহায্য করে। নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের বয়সের উপর নির্ভর করে মাসিক অবদানের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। 'অটল পেনশন যোজনা'-র অধীনে মাসিক অবদান ১৮ বছর বয়সে যোগদানকারীদের জন্য সর্বনিম্ন ৪২ টাকা থেকে শুরু হয়।
10
10
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও সদস্য ১৮ বছর বয়সে যোগদান করেন, তবে ৫,০০০ টাকা মাসিক পেনশনের জন্য প্রতি মাসে ২১০ টাকা অবদান রাখতে হবে। ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সুবিধাভোগীকে ৪২ বছর ধরে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে। মোট বিনিয়োগ হবে ১,০৫,৮৪০ টাকা এবং তহবিলটি বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৫৪,০৯৭ টাকায় পৌঁছাবে।